ঈদেরদিন অভুক্ত ছিলনা কোন ছিন্নমূল, পাশে ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জের ইউএনও!

0
8

এম হায়দার চৌধুরী শায়েস্তাগঞ্জ হবিগঞ্জ:: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে মুখে হাসি ফোঁটেছে ঈদের দিনে রেল স্টেশনে থাকা ছিন্নমূল মানুষের। এমনিতে প্রাণহীন স্টেশনের শুনশান পরিবেশে অনেক ছিন্নমূল মানুষ বাস করে। এ ঈদেও এখানে রাত কাটিয়েছেন এমন অনেক ছিন্নমূল মানুষজন। এমন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুঁটানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক উদ্যেগ গ্রহণ করেছিল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের।

ঈদের দিন সাত সকালে খুব কম লোকেরই ঘুম ভেঙ্গেছে। আবার কেউ কেউ ঘুম থেকে উঠেছেন, কেউবা ঘুমিয়েই আছেন। এসময়ে বিরিয়ানির প্যাকেট হাতে নিয়ে এসব ছিন্নমুল মানুষদের কাছে হাজির হলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মানবিক ইউএনও মো. মিনহাজুল ইসলাম। পুরো রেলস্টেশনসহ আশেপাশের ছিন্নমূল মানুষের হাতে নিজ হাতে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী। আচমকা এমন অপ্রত্যাশিত খাবার পেয়ে প্রথমে হতবাক হলেও এ মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিল কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি স্নিগ্ধ হাসির মুগ্ধ পরিবেশ।

জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এক ছিন্নমূল মানুষ সিরাজুল ইসলাম, অপ্রত্যাশিত খাবার পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ঈদের দিন সাত সকালে কেউ খাবার নিয়ে আসবেন তিনি কল্পনা ও করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা ভাবেন এমন মানুষ এখনো আছেন। কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।

অনিন্দ্য সাজানো জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন আরেক ছিন্নমূল নারী ছালেকা বেগম, তার অনাবিল অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, তিনি সারারাত অভুক্ত থেকে ঈদের দিন সকালে এত ভাল খাবার দিয়ে নাস্তা করবেন তিনিও আশা করেননি। যারা এমন অনাহারীদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন আল্লাহ তাদেরকে যেন বাঁচিয়ে রাখেন, এমন দোয়া করেন তিনি।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলামের এমন মানবিক কর্মকান্ডে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলাম জানান, ‘ঈদের দিন সকালে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুঁটানোর সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি এসব মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য। মানুষ ও মানবতার কল্যাণেই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাবে এবং আমাদের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন