উন্মাদ ট্রাম্পের কাণ্ডকীর্তি লিখেছেন ভাতিজী-ম্যারি ট্রাম্প

0
12

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু যে রাষ্ট্রপরিচালনাতেই হাস্যরস,উন্মাদনা আর বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছেন বা দিয়ে আসছেন তা-ই নয়, তার পারিবারিক জীবনও নানা ঘটনাবহুল। বলা যায় নানা কাহিনি আর কাণ্ডকীর্তিতে ভরপুর। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্রনায়কের চরিত্র হয়ে উঠেছেন তিনি। প্রতিদিনই গণমাধ্যমের শিরোনাম হন। যার বেশিরভাগই বিতর্ক আর সমালোচনার পাত্র হিসেবে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক পটভূমি খুবই কৌতুহল উদ্দীপক।
আমরা জানি,পশ্চিমা বিশ্বে সেলিব্রেটি কিংবা বিতর্কিত রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে লেখা অটোবায়োগ্রাফি তথা আত্মজীবনীর পাঠক কতটা বেশি। বিশেষ করে রাজনীতিকদের ঠিকুজি কুষ্ঠির চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে। নির্বাচনের আগে মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেলা হয় প্রার্থীদের চরিত্রকে। আর এসবকে উস্কে দেয় হঠাৎ প্রকাশিত কোনো জীবনী বই।

এমনিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উদ্ভট সব মন্তব্য আর টুইটের ঝড়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছেন। তার মধ্যে করোনা মহামারির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। করোনায় প্রাণহানিতে বিশ্বে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সেই সমালোচনার ঝড় না থামতেই জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যু সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে। বলা যায়, ট্রাম্পের যেটুকু ইমেজ ছিল তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এমনকি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে বর্জন করার ঘোষণাও উঠে এসেছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের ইয়োলো ইমেজের ওপর আরেক দফা চুনকালি মাখাতেই আসছেন তার ভাতিজি ম্যারি ট্রাম্প। আসছে ২৮ জুলাই তিনি তার আত্মজীবনী প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। যে বইটির শিরোনাম বাংলায় করলে দাঁড়ায় ‘হয় খুব বেশি, নয়তো খুব কম: আমার পরিবার থেকে কীভাবে তৈরি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এক মানুষ’। বইটির শিরোনাম দেখেই বোঝা যায় ট্রাম্পের ভাতিজি তার চাচাকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন তার বইটিতে।
পারিবারিক দিক দিয়ে ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প (১৯০৫-১৯৯৯) মূলত নিউইয়র্ক শহরেরই বাসিন্দা। তিনি ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রেই ট্রাম্প সেই রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেই তার কর্মজীবন গড়ে তোলেন। ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউ ইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ম্যারী অ্যানী একজন গৃহিণী। পাঁচ ভাই- বোন ফ্রেড জুনিয়ার, ডোনাল্ড, ম্যারিয়ান, এলিজাবেথ এবং রবার্টের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। ট্রাম্পের বড় ভাই ফ্রেড জুনিয়রের মেয়েই হচ্ছেন ম্যারি ট্রাম্প। সাইমন অ্যান্ড সুস্টার নামের মার্কিন এক প্রকাশনা সংস্থা ম্যারি ট্রাম্পের বইটি প্রকাশ করছে। বইটির কিছু সারসংক্ষেপ অ্যামাজন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ম্যারির চাচা ট্রাম্প কীভাবে বিশ্বের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠলেন সেই ব্যাখ্যা লেখিকা তার আত্মজীবনীতে দেবেন। ট্রাম্পের ভাতিজি ম্যারি ট্রাম্পই কিন্তু তার চাচার ব্যক্তিগত টাকাপয়সা সম্পর্কে গোপন দলিলপত্র এক সময় নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে দিয়েছিলেন। সেই গোপন দলিলপত্রের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস ট্রাম্পের ওপর বিষদ তদন্ত ভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। আর সেই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতার সেরা পুরষ্কার পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে জালিয়াতি করে কর ফাঁকি দেন। তাছাড়া বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে।

বছর বিশেক আগে ম্যারির বাবা আর চাচার পরিবারের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে একটি মামলার পর থেকে। ম্যারি আর তার ভাই তৃতীয় ফ্রেড ট্রাম্প ২০০৪ সালে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাতে অভিযোগ করেছিলেন দাদার সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাদা ফ্রেড ট্রাম্প যখন ১৯৯১ সালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তখন ডোনাল্ড আর তার বোনেরা মিলে ‘টাকা দিয়ে আর প্রভাব খাটিয়ে’ তার উইলটি বদলে দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ পত্রিকা। প্রতিবেদন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তখন ম্যারির মন্তব্য ছিল, মামলা নিয়ে তার চাচা ট্রাম্প আর ফুপুরা যেসব কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন সেজন্য তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। প্রকৃত পক্ষে মামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ট্রাম্প কোম্পানি যখন মামলার বাদী ম্যারিসহ তার ভাইয়ের মেডিকেল ইন্সিওরেন্স বাতিল করে দেয় তখন তারা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরেক দফা মামলা করেন। পরে বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংসা হয়। তবে কীভাবে তা মীমাংসিত হয়েছিল তার বিস্তারিত কেউই জানেন না। চাচা ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ম্যারি অনেকটাই নিজেকে আড়াল করে ফেলেন। তবে এবার ট্রাম্পকে নিয়ে বোমা ফাটাচ্ছেন তিনি। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর আগে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন হবে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে লড়াই করার জন্য সেখানে দলীয় অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবেন। তবে তার আগেই প্রকাশিত হবে ম্যারির বিস্ফোরক বইটি। এখন দেখার বিষয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলে তার ভাতিজির লেখা বইটি।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন