কাপাসিয়ার গরু চুরির ভয়ে গোয়ালঘরে রাত্রিযাপন, অভিযোগে মিলছেনা প্রতিকার

0
29

কাপাসিয়ার গরু চুরির ভয়ে গোয়ালঘরে রাত্রিযাপন, অভিযোগে মিলছেনা প্রতিকার।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরে কাপাসিয়ায় বেড়েছে গরু চুরি। রাত জেগে পাহারা দিয়েও রোধ করা যাচ্ছে না গরু চুরি। গত রোববার রাতে এক বাড়ির তিন ভাইয়ের আটটি গরু চুরি হয়েছে। একবছরে রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া গ্রামের ছয় কৃষকের ২৩টি গরু চুরি হয়। গরু চুরির ঘটনাগুলো কৃষকদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করেছে। চুরির ঘটনায় থানা পুলিশ হারানো জিডি বা অভিযোগ নিলেও উদ্ধারের খবর নেই। এতে করে গবাদিপশু পালনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় প্রতিতিনই ঘটছে গরু চুরির ঘটনা। কৃষকরা তাদের গরু চুরি রোধে রাত জেগে দিচ্ছেন পাহারা। গরু চুরির ভয়ে কেউ রাত্রিযাপন করছেন গরু রাখার ঘরে। গত রোববার রাতে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের পাবুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন খানের ছেলে আবুল কাশেম খানের তিনটি, ওবায়দুর কবির খান চারটি, পারভেজ খানের একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।

কাশেম খান জানান, গরুগুলি বাজার মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা। রোববার রাত একটার পর কোন এক সময়ে আমাদের গরুগুলি চুরি করে নিয়ে য়ায়। আমরা রাত একটা পর্যন্ত সজাগ ছিলাম। গরুগুলির বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকার। সোমবার দিন চুরির ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এছাড়া ২৯ অক্টোবর রাতে দরদরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গাভী, ১টি ষাড় ও ১টি বাছুর গরু চুরি হয়। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাপাসিয়া থানার অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
উপজেলার দরদরিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবুল হাসেমের ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি গরু ছিল। জমিতে হালচাষ, ধান মাড়াই ও পরিবারের দুধের
ঘাটতি মেটানোর এসব গরু ছিল ভরসা। গেলবছর ৩০ অক্টোবর রাতে তাঁর ৫ টি গরু চুরি হয়ে যায়। আবুল হাসেম গরু চরির বিষয়ে কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। কয়েকমাস আগে একই গ্ৰামের কফিল উদ্দিন তাঁর চাচাতো ভাই আতিকুল ও বিল্লাল হোসেনের গোয়ালঘর থেকে আটটি গরু চুরি হয়। আটটি গরু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় ওই তিন পরিবার। কফিল উদ্দিন জানান, টাকা জোগার করে আবার গরু কিনবো এই সক্ষমতা নেই। পাশের হাইলজোড় পশ্চিমপাড়ার দরিদ্র কৃষক বাদল মিয়া প্রায় ৪০ বছর ধরে মহিষের গাড়ি বেয়ে সংসার চালান। ৬ এপ্রিলে তাঁর দুটি মহিষ চুরি যায়। মহিষ দুটি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। থানায় জিডি করেছেন সাত মাস হয়েছে। মেলেনি মহিষের সন্ধান। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এখন গরু চুরির আতঙ্ক। প্রায় প্রতি রাতেই উপজেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে এমন ঘটনা। কৃষকরা তাদের গরু হারানোর ভয়ে রাত জেগে গোয়ালঘর থেকে গরু পাহারা দিচ্ছেন। কফিল উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ বা সংসারে দুধের ঘাটতি মেটাতে তার এই চারটি গরুর মধ্যে ২টি ষাঁড়, ১টি গাভি ও ১টি বাছুর গরু ছিল। কিন্তু হঠাৎই গরুগুলো চুরি যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গরুগুলোর বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। গরু চুরির এসব ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের অন্যান্য কৃষকের মাঝে। গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে চায়ের দোকান, আড্ডা বা জটলায় বারবার উঠে আসছে গরু চুরির এসব ঘটনা। এতে কেউ ঘটনার শিকার কৃষকের জন্য আফসোস করছেন, কেউবা নিজেদের গরু নিয়ে হচ্ছেন শঙ্কিত। এর মধ্যে কারও কারও কাছে শোনা যায় রাত জেগে গরু পাহারা দেওয়ার কথা।
কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমি দুটি বাচ্চা গরু কিনার সিদ্ধান্ত নিয়েও চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে কিনা হয়নি। কারণ রাত জেগে গরু পাহারা দেয়া অনেক কষ্টের। আরও বলেন, এলাকার স্থানীয় কোনো ব্যাক্তি বা অপরাধী চক্রের যোগসাজশেই এসব চুরি হয়। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বা প্রশাসনের দিক থেকে আরো বেশি তৎপরতা আশা করেন তিনি। স্থানিয় বাসিন্দা হাসানুর রহমান বলেন, একই এলাকার আহসান উদ্দিনের কাছে ভাগে পালনের জন্য একটি গরু কিনে দিয়েছিলাম। কয়েকমাস আগে গরুটি চোরে নিয়ে গেছে। এমন অনেকেই রয়েছেন যারা গরু চুরির ভয়ে লালন পালন করা ছেড়ে দিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গবাদিপশু পালন করে। প্রাণিখাদ্যের দাম বেশী, তারপর চুরির আতঙ্কে গবাদিপশু পালনে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। চুরি রোধে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোসহ গরু উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার। একই সাথে রাতের বেলায় গরু পরিবহনের ওপর নজরদারি জরুরী।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা রাশেদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, শীত আসলে গরু চুরির প্রবণতা বেড়ে যায়। গরু চুরির রোধ করতে এলাকা ভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মিলে উপজেলায় প্রবেশ ও বাহির পথ গুলোতে নজরদারি জোরদার করা। রাতের বেলা গবাদি পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি পত্র নিয়ে করা।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, গরু চুরির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করছি। চুরি রোধে পুলিশের অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন