কুমিল্লায় আদালতে পিপির কক্ষে বাদী প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে হাতকড়া পড়ানো বিবাদী তরুণের বিয়ে

0
29

কুমিল্লায় আদালতে পিপির কক্ষে বাদী প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে বিবাদী তরুণের বিয়ে

বরের হাতে হাতকড়া,কনের মুখে মাস্ক

কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কক্ষে প্রবাসীর সাবেক স্ত্রী(২৪) ও এক তরুণের(২৯) বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে বর কনের পরনে উৎসবের পোশাক ছিলো না। বরের হাতে ছিলো হাতকড়া আর কনের মুখে করোনা প্রতিরোধী মাস্ক। তবে অন্যান্য ধর্মীয় নিয়ম পালন করা হয়। ১০লক্ষ টাকা দেন মোহরে বিয়ে পড়ান কাজী মাওলানা মো. অলি উল্লাহ ভুইয়া। বর কনের কবুল বলে বিয়ের পরে মোনাজাত করা হয়।

পরে আইনজীবী,পুলিশ,সাংবাদিক, বর-কনের স্বজনদের মাঝে খেজুর বিতরণ করা হয়। আদালতে বিয়ের বর কনেকে দেখতে ভিড় করে উৎসুক মানুষ। কনে বাড়িতে গেলেও বর গিয়েছেন কারাগারে। তিনি আইনি কার্যক্রম শেষে বুধবার মুক্তি পেতে পারেন। এর আগে কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাব উল্লাহ আপোসের শর্তে তরুণকে জামিন দেন এবং আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্র জানায়,কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুস্করনী গ্রামের এক তরুণী বিয়ে হয় ওই উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর সাথে। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ২০১৫সালে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় একই উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের সজিব হোসেন লিটনের। লিটন তার অনিচ্ছায় দৈহিক সম্পর্ক করে। সেই ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই ভিডিও তার প্রবাসী স্বামীর পরিবারে পাঠায়। এতে স্বামী তাকে ডির্ভোস দেন। পরবর্তী তার নিকট পুনরায় পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি অপারগতা প্রকাশ করে গত অক্টোবর মাসে চৌদ্দগ্রাম থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাদীর দাবি অনুযায়ী আসামি তাকে ফাঁদে ফেলে ছবি তুলেছে। সেই ছবি প্রবাসী স্বামীর নিকট পাঠানোর কারণে তাকে ডির্ভোস দিয়েছে। বাদী ও আসামি পক্ষ এলাকায় বিয়ের শর্তে আপোস করে এসেছে। মাননীয় আদালত আপোসের শর্তে আসামিকে জামিন দিয়েছেন। এছাড়া আদালত আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। ১০লক্ষ টাকা দেন মোহরে পিপির কক্ষে বিয়ে হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেকুল আলম রাসেল বলেন,মূলত বাদী ও আসামির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। আসামিও জানতেন না বাদী বিবাহিত। এটা মূলত ভুল বোঝাবুঝি। এখন আপোসের কারণে আদালত জামিন দিয়েছেন এবং বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন।

এদিকে এবিষয়ে বাদী ও আসামি পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন