গাজীপুরের স্বাস্থ্যসেবা খাত,বাতির নিচে অন্ধকার!কি বলবেন ডি সি,সিভিল সার্জন?

0
155

গাজীপুর অফিসঃ স্বাস্থ্যসেবা খাত একটি সেবা ধর্মী পেশা,আর সেই পবিত্র পেশাকেই পুঁজি করে,একটি স্বার্থান্বেষী মহল,দেশের প্রচলিত আইনকে অমান্য উপেক্ষা করে,সেবার নামে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা বানিজ্য? অনেকটা নির্বিকার যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

বাতির নীচে অন্ধকার,এটা যেন গাজীপুরের স্বাস্থ্যসেবা খাতের নানা অনিয়ম অসংগতি দুর্নীতির দিকে তাকালেই স্পষ্ট দেখা যায়। আলো যখন জ্বলে তখন আলো-আঁধারের খেলা হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতের আলো আঁধারের খেলাই দেখছি গাজীপুরে,এই খেলা হত না,যদি আলোর নীচে অন্ধকার না হত। আলো-আঁধারের এই খেলা দেখি আমরা সব সময়। আর সেই খেলাটি গাজীপুর জেলা বা মহানগর শহরেই। আমরা যেখানে বসে গাজীপুর জেলাকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার জন্য নিয়মিত নীতিবাক্য প্রদান করছি,জেলা ও মহানগরকে পরিচালিক করছি,সেখানেই স্বাস্থ্যসেবা খাতের এমন অনিয়ম। গাজীপুর শহরে প্রাইভেট হাসপাতাল,ক্লিনিক, ডায়গনষ্টিক সেন্টার,চক্ষু চিকিৎসালয়,ডেন্টাল চিকিৎসালয় এমনকি ঔষুধের দোকানও মনিটরিং করা হয় না রীতিমত অথবা কোন অনৈতিক সুবিধায় চলছে আমাদের চারপাশে এমন কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানে জানা যায় কাগজে কলমে সরকারী হাসপাতালে আর বাস্তবে প্রাইভেট ক্লিনিকে চেম্বার করছেন অনেক ডাক্তার। আর যেখানে বসে চেম্বার করছেন সেই প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না,সেটাও দেখছেন না তারা।

গাজীপুর মহানগরে স্বাস্থসেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হালসন পর্যন্ত কাগজপত্র আপডেট আছে এমন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেক প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র আছে দাবি করলেও চলতি অর্থবছরের নবায়ন নেই এমনকি ২০১৯/২০২০ সেশনের লাইসেন্স দেখাতে পারেনি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। কেউ কেউ গত বছরের নবায়ন দেখিয়েই বলছে কাগজপত্র ওকে। এই ধারণাটা একেবারেই নতুন। কারণ অর্থবছরের সকল নবায়ন শেষ হয় ৩০জুন। যা এখনো হয়নি। ৩০ জুনের পর স্পর্শকাতর এই খাতে কোন তদারকি হয়নি কেন,সেটা জানা সম্ভব হয়নি। আবার যে সকল প্রতিষ্ঠান ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে এখনো পাননি,তারাও ব্যবসা করছেন দেদারসে। তবে এমন অভিযোগও শুনা যায় সরকারি কোষাগারে সকল লাইসেন্সর বিপরীতে চালান ফরমের জমা টাকা ছাড়া-ও সিভিল সার্জন অফিসের কথা বলে কোন প্রকার রিসিট ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন কতিপয় ব্যাক্তি।

গাজীপুর মহানগর প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি কাজীম উদ্দিন কাজী জানালেন, আপডেটের কাজ চলছে। সকল শর্ত পূরণ করেই আবেদন করতে হয়। চলতি অর্থবছরে নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর লাইসেন্স দিলেই হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়,গাজীপুর শহরে বর্তমানে চলমান অনেক নামী দামী বেসরকারী হাপসাতাল ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই, এমনকি পূর্ব অনুমোদনও নেই পাওয়া গেছে এমন প্রতিষ্ঠানও। এই সকল প্রতিষ্ঠানে যারা চিকিৎসা করেন তাদের অনেকেই লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। অনেকে বলছেন,এই কারণেই হয়ত ওই সকল প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স করতে তেমনভাবে আগ্রহী থাকেন না। তাছাড়া প্রাইভেট হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অপচিকিৎসা ইচ্ছে মত বিল তৈরি বা ভুল চিকিৎসায় রুগী মারা যাওয়ার ঘটনার অভিযোগও কম নয়।

সাধারণ মানুষ বলছেন,ফুটপাতে দোকান বসানো হয়, আবার জরিমানা করে তুলেও দেয়া হয়। মিষ্টির দোকানে ময়লা দেখলেও জরিমানা হয়। সরকারী আইন ভঙ্গ করে মুখে মাস্ক না পড়লে জরিমানা হচ্ছে অথচ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট না করে বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো দেদারসে ব্যবসা করছে। এটি কি করে হয়! এমন প্রশ্ন অনেকেরই।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন