গাজীপুরে লকাডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্টের অভিযান

0
15

গাজীপুরে লকাডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্টের অভিযান

গাজীপুর অফিসঃ গাজীপুরে সরকার নির্দেশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লক ডাউন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ০৮ জুলাই লকডাউন কার্যকরে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকে। কোনাবাড়ি থানাধীন ফ্লাইওভার চেকপোস্ট এবং সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা।এসময় পণ্যবাহী ভ্যান, জরুরি পরিষেবার আওতায় গাড়ি ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়নি।

মাস্ক বিহীন চলাচল না করতে পথচারীদের সতর্ক করা হয় । একইসাথে দুস্থ পথচারীদের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করা হয়। নির্দেশনার আওতাবহির্ভূত সকল দোকানপাট বন্ধ করানো হয়।
মাইকিং করে উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে সকলকে গৃহে অবস্থানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এসময় ৭ টি মামলায়
মোট অর্থদন্ডের পরিমানঃ ৫,৭০০/-। ১। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ১ টি মামলা। ২। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ এর ৯২ ধারায় ৬ টি মামলা। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় চেকপোস্টে এ অবস্থানরত মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যগণ সহায়তা করেন।

মিরের বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা।এ সময় রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং অধিক সংখ্যক যাত্রী বহন করায়, অটোরিকশা, কার এবং মোটরবাইকে জরিমানা করা হয়। ১২ টি মামলায় অর্থদণ্ড: ৬২০০ টাকা।১.দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ১০ টি মামলায় ৪৭০০ টাকা জরিমানা। ২. সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন ২০১৮ ২৪(২) ধারায় একটি মামলায় ১০০০ টাকা৩. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯২ ধারায় একটি মামলায় ৫০০ টাকা জরিমানা।

রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, মাওনা বাজার, মাস্টারবাড়ি গড়গড়িয়া বাজার, গাজীপুর বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা আহমেদ। এসময় জরুরি পরিসেবা বহির্ভূত অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হয় এবং পথচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে উৎসাহিত করা হয়। মাওনা বাজার এবং জয়দেবপুর বাজারে ৩ টি দোকানে বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল পাওয়া যাওয়ায় নকল ব্যান্ডরোলের বিড়ি বিনষ্ট করা করা হয় এবং অর্থদন্ড দেওয়া হয়।মাওনা বাজার এবং মাস্টারবাড়ি গড়গড়িয়াতে দুইটি হোটেলে ক্রেতাকে অভ্যন্তরে খাবার পরিবেশন করায় অর্থদন্ড প্রদান করা হয় এবং তারা করোনাকালীন সময়ে শুধু মাত্র পার্সেলে খাবার বিক্রি করবে মর্মে জানায়। মোবাইল কোর্টে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮,৫০ ধারাতে ৭ টি মামলায় সর্বমোট ৭৪০০০/- টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। সার্বিক সহায়তায় ছিলেন জেলা বাজার কর্মকর্তা জনাব আব্দুস সালাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ব্যাটেলিয়ন আনসারের সদস্যবৃন্দ।

গাজীপুর জেলার চৌরাস্তা এবং বাসন এলাকায় লক ডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না রহমান, নির্দেশনার আওতাবহির্ভূত সকল দোকানপাট এবং অনুমোদন বিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করানো হয়। বাসন থানাধীন সামাদ সুপার মার্কেট খোলা পাওয়ার জন্য দোকানি দের কে অর্থদন্ড করা হয়।উক্ত এলাকায় দুইটি গার্মেন্টস এ শ্রমিকদের মাস্ক পড়া অবস্থায় পাওয়া না যাওয়া এবং মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন তা লক্ষ্য করায় তাদের অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়াও গত ২৪/০৬/২০২১ তারিখে একটি মামলায় ৮০,০০০ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় । সেই অর্থদন্ড আজ কে আদায় করা হয়। ৯ টি মামলায় মোট অর্থদন্ডের পরিমানঃ ৬৯,৭০০+ ৮০,০০০ = ১,৪৯,৭০০/-
১। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ৮ টি মামলা।
২। সংক্রামক রোগ ( প্রতিরোধ , নিয়ন্ত্রন ও নির্মূল) ২০১৮ এ ১ টি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সাথে ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিজিবি ব্যাটলিয়নের সদস্যগণ সহায়তা করেন।

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগরা বাইপাস এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আরিফুন্নাহার রিতা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় জরুরি সেবা ও পন্যবাহী যানবাহন ব্যতীত সকল যন্ত্রচালিত যানবাহন, দোকান,শপিং মল বন্ধ রাখা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেনতা সৃষ্টি করা হয়।এসময় স্বাস্হ্যবিধি ও সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান না করায় ও সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা অমান্য করায় দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের ২৬৯ধারায় ৪টি ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৬৬ ধারায় ১ টিএবং সংক্রামক রোগ(প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৪(২) ধারায় ১ টি মোট ০৬টি মামলায় ৪,৬০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সহযোগিতায় ছিলেন বাসনথানাধীন পুলিশ সদস্যবৃন্দ ।

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় সকাল ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঘোড়াশাল ব্রিজ সংলগ্ন চেকপোষ্টে অবস্থান নেয় পুলিশ। এছাড়াও পৌর এলাকা,জামালপুর সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।এ সময় সকল অনুনোমোদিত যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। দোকান খোলা রাখায়, অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে সংক্রামক রোগ ( প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৪(২) ধারায় ৫টি মামলায় জরিমানা এবং অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শাহিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কালীগঞ্জ, গাজীপুর। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়তায় ছিলেন পুলিশ বাহিনী সদস্যগণ।

গাজীপুরের জোর পুকুর পাড়,উত্তর ও দক্ষিণ ছায়াবিথী সংলগ্ন এলাকা, রেলস্টেশন, হাড়িনাল বাজার,ভুরুলিয়া, বি আই ডিসি রোড,গাজীপুর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন হাফিজা জেসমিন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসন, গাজীপুর। এসময় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ৮টি এবং সংক্রামক রোগ(প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৪(২) ধারায়- ০১টি। মোট ৯টি মামলায় অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।৮ জুলাই, ২০২১ ইং মোট মোবাইল কোর্ট: ১৯ মামলা সংখ্যা: ৯৭ অর্থদন্ড: ২,৯২,২৭০/- টাকা।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন