গাজীপুরে স্কুলে আগুন!অপরাধীদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

0
41

মোঃ ইসমাঈল হোসেন (মাস্টার) গজীপুর জেলার সদর উপজেলাধীন বানায়ারচালা এলাকায় জলপাইতলা মডেল স্কুলে আগুনের প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকায় জেলা শহরের রাজবাড়ী রোডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন গাজীপুর সদর আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইয়াছিন চৌধুরী, সভাপতি বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন গাজীপুর সদর।

বিকেএ গাজীপুর সদর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসেনের সঞ্চালনায় স্কুলে আগুনের ঘটনার নিন্দা ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাঈল হোসেন মাস্টার, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম কাজল রানা, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সেলিম,ফজর আলী, আব্দুর রশিদ।

জলপাইতলা মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশাফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বিদ‍্যলয়ের প্রতিষ্ঠাতা আকবর আলী আমার বাবা।

তিনি বলেন, জলপাই তলা এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ২০১৫ সালে এলাকা বাসীর অনুরোধে বিদ‍্যালয়টি আমার বাবা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই বিদ‍্যালয়ে দুইশতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। প্রয়োজনীয় ক্লাস রুম না থাকায় পাঠদান ব‍্যহত হচ্ছিল। আমার বাবার ক্রয়সূত্রে স্কুল সংলগ্ন ১৭ শতক জমি প্রায় চল্লিশ বছর আমাদের ভোগদখলে আছে। জমিতে বিদ‍্যালয়ের সম্প্রসারণ ভবনের কাজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে প্রতিবেশি গিয়াস উদ্দিন গং হিংসা শত্রতার বশবর্তী হয়ে জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে গত ২০ এপ্রিল অতর্কিত হামলা করে স্কুলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। হামলায় আমার বাবা, মা, প্রতিবন্ধি ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক জখম করে। এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ (৬) দায়ের করি।

জলপাইতলা মডেল স্কুলের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত এবং শত্রুতার বশবর্তী হয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে আমাদের স্কুলের পাশেই গিয়াস উদ্দিন আরো একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন ওরফে গেসু ডাকাতের ছোট ভাই মজিবুর রহমান আমাদেরকে হয়রানির জন্য আমাকে প্রধান আসামি করে গত ২৩ এপ্রিল আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ‍্যা মামলা দায়ের করে। জয়দেবপুর থানা পুলিশ গত ১০ নভেম্বর আমাকে গ্রেফতার করে জেল হাযতে প্রেরণ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে জলপাইতলা মডেল স্কুলের পূর্বপাশের টিনসেট ভবনে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশি বিথী বেগম চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজনের ঘন্টা দুয়েক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জয়দেবপুর থানার এস আই কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আগুনের ঘটনায় স্কুলের পূর্বপাশের ভবনের তিনটি রুম বারান্দা সহ রুমের ভেতরে থাকা জরুরি ফাইল, কাগজ, সরকারি বইপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্কুলে আগুনের ঘটনায় ১০ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

স্কুল ভবনে আগুনের সংবাদ পেয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরের দিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো ঘটনার কারন উদঘাটন হয়নি।

আগুনের ঘটনায় স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আকবর আলী বাদি হয়ে
১। মোঃ গিয়াশ উদ্দিন (৫৫) পিতা মৃত সবর আলী। ২। মজিবুর রহমান পিতা মৃত সবর আলী।৩। বিজয় মিয়া। ৪।রুহুল আমিন। ৫। আলমগীর। ৬। জয় ও রাসেল মিয়া। সর্ব সাং বানিয়ারচালা নামে ঘটনার পরের দিন জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এবিষয়ে চেষ্টা করেও গিয়াস উদ্দিন এবং তাদের অন‍্যকারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জলপাইতলা স্কুলে আগুনের ঘটনার মামলার বিষয়ে জয়দেবপুর থানার এস আই ও মামলার আয়ু সাদেক জানান বিষয়টি তদন্তাধীন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক গাজীপুর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন