গাজীপুর জেলার নদী সমূহ

0
18

গাজীপুর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান বর্তমান দখলমুক্ত ও আংশিক দখল নদীর সংখ্যা ১৫টি । নিন্মে সংক্ষেপে দেয়া হলো ।
০১// খিরু নদী
জেলাসমূহঃ গাজীপুর ও ময়মনসিংহ ।
উৎসঃ ডাকাতিয়া ও কাচিকা ইউনিয়ন
মোহনাঃ বানার লোয়ার নদী
দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার (২৯ মাইল)
খিরু নদী বা খিরো নদী (ভালুকা) বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৩ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক খিরো নদী (ভালুকা)র প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ১১।

০২// চিলাই নদী
জেলা গাজীপুর জেলা
উৎসঃ— প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের বিলাঞ্চল
মোহনাঃ— বালু নদী
দৈর্ঘ্যঃ— ২৩ কিলোমিটার (১৪ মাইল)
চিলাই নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২৩ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক চিলাই নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ১৭।

০৩// টঙ্গী নদী
জেলাসমূহ ঢাকা, গাজীপুর
উৎসঃ– তুরাগ নদী
মোহনাঃঃ বালু নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল)
টঙ্গী নদী বা টঙ্গী খাল নদী (ইংরেজি: Tongi River) বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঢাকা ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক টঙ্গী খাল নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ২২

০৪// তুরাগ নদী
জেলাসমূহ ঢাকা জেলা, গাজীপুর জেলা
উৎসঃঃ বংশী নদী
মোহনাঃঃ বুড়িগঙ্গা নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ৬২ কিলোমিটার (৩৯ মাইল)
তুরাগ নদী বাংলাদেশের ঢাকা ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৮২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক তুরাগ নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ২৫।[১] এটি ঢাকা শহরের সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া ৪টি নদীর মধ্যে ১টি। এই নদীর গভীরতা ১৩.৫ মিটার। নদী অববাহিকার আয়তন ১ হাজার ২১ বর্গ কিমি। সারা বছরই এর প্রবাহ থাকে। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পানিপ্রবাহ কম থাকে। তখন মিরপুরে পরিমাপ ১২৪ ঘনমিটার/সেকেন্ড এবং গভীরতা হয় ৪.৫ মিটার। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আগষ্টে এই প্রবাহ বেড়ে ১১৩৬ ঘনমিটার/সেকেন্ডে দাঁড়ায়। তুরাগ নদের নিম্নাংশে জোয়ার-ভাটার প্রভাব রয়েছে।
প্রবাহ
তুরাগ নামের নদীটি গাজীপুর জেলাধীন কালিয়াকৈর উপজেলার প্রবহমান বংশী নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নে এসে দুটি ধারায় বিভাজিত হয়েছে। এর একটি শাখা সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নে বংশী নদীতে এবং মূল শাখাটি আমিনবাজার ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হয়েছে।

অর্থাৎ এটি বংশী নদীর শাখা। সে হিসেবে এটি কালিয়াকৈর, জয়দেবপুর, মির্জাপুর, গাজীপুর, সাভার, মিরপুর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় বুড়িগঙ্গায় মিলিত হয়েছে। তুরাগ নদ সর্পিলভাবে প্রবেশ করে প্রথমে কিছুটা পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে তারপর বুড়িগঙ্গায় পড়েছে। টঙ্গীখাল তুরাগ নদে মিলিত হয়েছে মিরপুরের উত্তরে। তুরাগের ছোট একটি শাখা কালিয়াকৈরের কাছ থেকে উৎপন্ন হয়ে কড্ডা এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে টঙ্গী খালে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এই শাখাকেও তুরাগ নদ বলে। সারা বছরই নদটি নৌকা চলাচলের উপযোগী। গ্রীষ্মে ক্ষীণকায় হয়ে পড়লেও তুরাগ একটি সক্রিয় নদ। যমুনা নদীর অবক্ষেপ প্রায় সুদূর টঙ্গী খাল পর্যন্ত তুরাগের উপত্যকা জুড়ে রয়েছে। ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্পের পর এমন ঘটেছে। এই নদীতীরে মির্জাপুর, কাশিমপুর, ধীতপুর, বিরুলিয়া, উয়ালিয়া, বনগাঁ প্রভৃতি স্থান অবস্থিত।

নদীর বর্তমান অবস্থাঃ
ঢাকার নদীমাতৃক বৈশিষ্ট্য দেখে বলা যায়, তুরাগে প্রচুর মাছ ছিল কিন্তু বর্তমানে তীব্র পানি দূষণে ভুগছে। যখন নদীকে বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অধিকাংশ কারখানা পরিবেশ আইনের খুব সামান্য অংশই মেনে চলতে চেষ্টা করেছে এবং পানির দৃশ্যমান রং পাল্টে গিয়ে নোংরা হয়েছে।

০৫// নাগদা নদী
জেলাসমূহ গাজীপুর জেলা, নরসিংদী জেলা
উৎসঃঃ শীতলক্ষ্যা নদী
মোহনাঃঃ বালু নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ২১ কিলোমিটার (১৩ মাইল)
নাগদা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩৬ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক নাগদা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ২৮।

০৬// নালজুরি নদী
জেলা গাজীপুর জেলা
উৎসঃঃ দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিলাঞ্চল
মোহনাঃঃ নাগদা নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ মাত্র ৫ কিলোমিটার (৩ মাইল)
নালজুরি নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫১ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক নালজুরি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৩০।

০৭// পারুলি নদী
জেলা গাজীপুর
উৎসঃঃ গোসাইন গাঁ
মোহনাঃঃ বালু নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ২৩ কিলোমিটার (১৪ মাইল)
পারুলি নদী বা পারুলি খাল বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক পারুলি খাল নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৩৪।

০৮// বংশী নদী
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ও ঢাকা জেলা
উৎসঃঃ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী
– অবস্থান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, জামালপুর, ময়মনসিংহ বিভাগ
মোহনাঃঃ তুরাগ নদী
– অবস্থান গাবতলী-আমিনবাজার, সাভার, ঢাকা
দৈর্ঘ্য ২৩৮ কিলোমিটার (১৪৮ মাইল)
বংশী নদী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।[১][২] নদীটি বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪৯ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক পুরনো বংশী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৩৯।
বর্ণনাঃ——-
বংশী নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী। এর দৈর্ঘ্য মোট ২৩৮ কিলোমিটার।[১][৪] নদীটি জামালপুর জেলার শরীফপুর ইউনিয়ন অংশে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণে টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলা অতিক্রম করে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি সাভারের কর্ণতলী নদীর সাথে মিলে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে আমিনবাজারে এসে তুরাগ নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। তুরাগ নদী আরো কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মিশেছে বুড়িগঙ্গায়। বংশী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২৩৮ কিলোমিটার। এই নদী চারটি জেলা যথাক্রমে জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা এবং ১০টি উপজেলা যথাক্রমে জামালপুর সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতি, বাসাইল, মির্জাপুর, সখিপুর, কালিয়াকৈর, ধামরাই, সাভার এবং ৩২১টি মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এই নদীকে কেন্দ্র করে অনেক হাট-বাজার, গঞ্জ, স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় তৈরির ঢাকার ধামরাই এলাকা, টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল ইত্যাদি। সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ এ নদীর তীরেই অবস্থিত। এখনো বর্ষা মৌসুমে ছোট ও মাঝারি নৌকায় মধুপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌপথে কলা, কাঁঠাল, আনারস ও নানা ধরনের তরকারি ভুয়াপুর, সরিষাবাড়ি, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এ নদী দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। মধুপুর গড়াঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলের সভ্যতা ও জীববৈচিত্র্য টিকে রয়েছে বংশী নদীকে কেন্দ্র করেই।

০৯// বানার লোয়ার নদীঃ—-
জেলাঃঃ গাজীপুর ও ময়মনসিংহ
উৎসঃঃ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী
মোহনাঃঃ শীতলক্ষ্যা নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ৪৫ কিলোমিটার (২৮ মাইল)
বানার লোয়ার নদী বা বানার নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৮১ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বানার নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৪৫।

১০/ / বালু নদীঃ—-
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর জেলা ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা
উৎসঃঃ পারুলি নদী সুতিয়া নদী
মোহনাঃঃ শীতলক্ষ্যা নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ৪৪ কিলোমিটার (২৭ মাইল)
বালু নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৯ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বালু নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৪৬।
অন্যান্য তথ্যঃঃ
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের উত্তর-পূর্ব এলাকা দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। এটি বেলাই বিল ও ঢাকার উত্তর-পূর্ব বিস্তীর্ণ জলাভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ডেমরার কাছে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে পড়েছে। শীতলক্ষ্যার সাথে কাপাসিয়ার কাছে সুতি নদীর মাধ্যমেও এর একটা ক্ষীণ যোগাযোগ ছাড়াও টঙ্গী খালের মাধ্যমে তুরাগ নদীর এসে মিলিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বালু নদী শীতলক্ষ্যা ও তুরাগের পানি বহন করে। এই নদীর গুরুত্ব হচ্ছে, এটি স্থানীয় পানি নিষ্ক্রমণ আর নৌ-পরিবহণ অব্যাহত রাখা।

নদীর বর্তমান অবস্থাঃঃ
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপরে সময়োচিত নদী ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের অভাবে বালু নদীটি বর্তমানে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। প্রচণ্ড খরস্রোতা এই নদীটিতে প্রতি বছরের ৬/৭ মাসই পানিশূন্যতা বিরাজ করছে।

১১// লাবুন্ধা নদী
জেলাঃঃ গাজীপুর জেলা ।।
উৎসঃঃ ময়না ইউনিয়নের বিলাঞ্চল ।।
মোহনাঃঃ তুরাগ নদী ।
দৈর্ঘ্যঃঃ ২৩ কিলোমিটার (১৪ মাইল)
লাবুন্ধা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক লাবুন্ধা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৩।

১২// লৌহজং নদী
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর জেলা ও টাঙ্গাইল জেলা ।
উৎসঃঃ ধলেশ্বরী নদী ।
মোহনাঃঃ বংশী নদী ।
দৈর্ঘ্যঃঃ ৮৫ কিলোমিটার (৫৩ মাইল)
লৌহজং নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৮৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক লৌহজং নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৪।

অন্যান্য তথ্যঃ—
লৌহজং নদীটি পুর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি দক্ষিণে বাঁক নিয়েছে। এই নদী অববাহিকার আয়তন ১০৪ বর্গ কিমি।[২]নদীটি টাঙাইল শহরের দিঘুলিয়া,কলেজেপড়া, কাগমারা,বেরাডুমা,আকুরটাকুর পারা,কাগমারি,কাজিপুর দিয়ে প্রবাহিত

টাঙ্শগাইল শহরের প্রান এই নদী ।

১৩//শীতলক্ষ্যা নদী
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর,নরসিংদী ঢাকা নারায়ণগঞ্জ
উৎসঃঃ বুড়িগঙ্গা ।
নদীটির মোট দৈর্ঘ্যঃঃ ১১০ কিমি, প্রস্থ নারায়ণগঞ্জের কাছে ৩০০ মিটার,

শীতলক্ষ্যা নদী বা লক্ষ্ম্যা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নরসিংদী গাজীপুর, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক শীতলক্ষ্যা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৫।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপন্ন। গাজীপুর জেলার টোক নামক স্থানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে একটি ধারা বানার নামে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে লাকপুর নামক স্থানে শীতলক্ষ্যা নাম ধারণ করে বৃহত্তর ঢাকা জেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা কলাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীতে পড়েছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ১১০ কিমি, প্রস্থ নারায়ণগঞ্জের কাছে ৩০০ মিটার, কিন্তু উপরের দিকে আস্তে আস্তে কমে গিয়ে হয়েছে প্রায় ১০০ মিটার। ডেমরায় সর্বোচ্চ ২,৬০০ কিউমেক প্রবাহ পরিমাপ করা হয়েছে। নদীটি নাব্য এবং সারা বছরই নৌ চলাচলের উপযোগী। শীতলক্ষ্যার ভাঙন প্রবণতা কম।

বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিন শিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। বর্তমানেও নদীর উভয় তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। অধুনালুপ্ত পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ‘আদমজী জুট মিল’ শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত ছিল। এই নদীর তীরে ঘোড়াশালের উত্তরে পলাশে তিনটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জে একটি তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য একদা বিখ্যাত ছিল। বছরের পাঁচ মাস নদীটি জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্রভাবিত থাকে, কিন্তু কখনোই কূল ছাপিয়ে যায় না।
শীতলক্ষা নদীর পশ্চিম পার্শ্বে গাজীপুর জেলা এবং পূর্বপাড়ে নরসিংদী জেলা অবস্থিত। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোগাশাল নামক স্থানে একটি রেল সেতু এবং ২টি সড়ক সেতুর মাধ্যমে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে যাতায়ত করা হয়। শীতলক্ষা নদীকে কেন্দ্র করে পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এ পর্যন্ত ছোট বড় বহু শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। কয়েকটি উল্লেখ যোগ্য শিল্প কারখানা দেশ বন্ধু সুগার মিল, দেশ বন্ধু পলিমার, পেট্রিয়ট ফেসেন, প্রাণ ইন্ডাষ্ট্রিজ লি:, চরকা টেক্সটাই, সেভেন রিং সিমেন্ট ফেক্টরী, তাইহিও সিমেন্ট ফেক্টরী , ন্যাশনাল জুট মিলস । আর কে জুট মিলস । মসলীন কটন মিল (বর্তমানে হামিম গ্রুপের মিলস) । সহ গারমেন্টস কারখানা সমূহ ।

অন্যান্য তথ্যঃঃ—
এই নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর গতিপথের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের পূর্ব দিয়ে কালাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। এর উপরিভাগের একটি অংশ বানর নদী নামে পরিচিত। নদীটি প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং নারায়ণগঞ্জের নিকটে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার। এর সর্বোচ্চ প্রবাহ ডেমরার কাছে ২,৬০০ কিউসেক। সারা বছর ধরে এর নাব্যতা বজায় থাকে।

১৪// সালদহ নদী
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর,ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল,,
উৎসঃঃ কাচিনা ইউনিয়নের বিলাঞ্চল
মোহনাঃঃ তুরাগ নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ৩৭ কিলোমিটার (২৩ মাইল)
সালদহ নদী বা শালদহ নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৭ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪৩ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক সালদহ নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৭।

১৫// সুতী নদীঃঃ
জেলাসমূহঃঃ গাজীপুর জেলা
উৎসঃ দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিলাঞ্চল
মোহনাঃঃ বালু নদী
দৈর্ঘ্যঃঃ ১৯ কিলোমিটার (১২ মাইল)
সুতী নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গাজীপুর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪৯ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক সুতী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৭।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন