জ্বালানি (কয়লার) সঙ্কটে হবিগঞ্জের ইটভাটাগুলি

0
7

জ্বালানি (কয়লার) সঙ্কটে হবিগঞ্জের ইটভাটাগুলি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: জ্বালানি কয়লার সঙ্কটে নতুন ইট উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ইটভাটা মালিকরা। আমদানি স্বল্পতায় জ্বালানি (কয়লা) সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু করতে পারছেন না মালিকরা। নতুন ইট উৎপাদন না হওয়ায় বেড়েছে মজুত ইটের দাম। ফলে বেসরকারি আবাসন খাতসহ সরকারি উন্নয়ন কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

ইট পোড়ানোর মৌসুমে কয়লা কিনতে না পেরে বেশিরভাগ ইটভাটার মালিকরা এখনও কাজ শুরু করতে পারেননি। ইটভাটা মালিকদের দাবি স্বল্প পরিসরে কয়লা আমদানি শুরু হলেও কয়লা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে মেট্রিক টন প্রতি কয়লার দাম বেড়েছে তিনগুণ । বর্তমানে এক মেট্রিক টন কয়লা কিনে ভাটা পর্যন্ত নিয়ে আসতে খরচ পড়েছে ৩০ হাজার টাকার উপরে। এ অবস্থায় ইটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ইটভাটা মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

হবিগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১১৫টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ৫/৭টি ইটভাটায় প্লাস্টিক আর গাদের উপর ভরসা করে আগুন দিলেও কয়লার অভাবে আগুন দিতে পারছেনা জেলার ১১০টি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ভাটায় শ্রমিকরা কাঁচা ইট তৈরিতে ব্যস্ত। সারি সারি কাঁচা ইট শুকিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে ইট পোড়ানোর কাজ বন্ধ রয়েছে।

বাহুবল উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাজী দুলাল বলেন, দিনে দিনে কয়লার দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে ইট ভাটা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া মালিকদের আর কোনো উপায় নেই। ইট ভাটা শিল্প এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দ্রুত সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে কয়লার দাম কমিয়ে এই শিল্পকে বাঁচানো জরুরি। কয়লার সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে মালিক পক্ষ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন