ডাক্তার-রোগী সব-ই আছে! নেই শুধু চিকিৎসা ভবন

0
3

এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে:: মানুষের জীবনধারণের জন্য পাঁচটি মৌলিক অধিকার হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা। এসব মৌলিক অধিকার দেশের সকল নাগরিকের প্রাপ্য। দেশের প্রায় সকল জেলা উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, ওষুধ, পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়া হয়। তবে আমাদের দেশের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে এসব সেবার সংকট থাকলেও থেমে নেই চিকিৎসা কার্যক্রম। এ নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রতিনিয়তই চলছে উপজেলা কেন্দ্রীক চিকিৎসা সেবা।

হবিগঞ্জ জেলার নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। কাগজ-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বলা হলেও বাস্তবে এর কার্যক্রম চলছে জরাজীর্ণ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। এখানে প্রতিদিন বসেন চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী রোগীও আসছে নিয়মিত। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল শায়েস্তাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা থেকে উপজেলায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে
যাচ্ছেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, অনেক পুরাতন জরাজীর্ণ এই টিনশেডের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি কক্ষ ব্যবহার করা হয় রোগীদের বসার স্থান হিসেবে। আরেকটি কক্ষে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বসেন। আরেকটি কক্ষে দুজন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগী দেখছেন। অন্য কক্ষে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবগঠিত এই উপজেলায় হাসপাতালের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অর্থাৎ উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশেই ৫ একর জমি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল জমাদ্দর বলেন, নতুন উপজেলা হিসেবে এখনও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়নি। তারপরও জনবহুল এলাকা হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একজন জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ (অ্যানেসথেসিয়া) ৯ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বসার স্থান না থাকায় সাতজন চিকিৎসককে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। বাকি
দুজন এখানে বসেই নিয়মিত রোগী দেখছেন।

এখানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকায় রোগী আগের চেয়ে বেড়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সব চিকিৎসক ৪২তম বিসিএস ক্যাডার। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে ৯৬ শতক জমি রয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে অস্থায়ী ভিত্তিতে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি আউটডোর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ১১১টি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবপত্র দিয়েছি। নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন