নাই রেডিও, নাই চিঠি,নাইরে টেলিগ্রাম

0
15

এম হায়দার চৌধুরী। শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) বিশ্বব্যাপী গণমানুষের সংবাদ প্রাপ্তি ও বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও বা বেতারযন্ত্র। মানুষের প্রজ্ঞা প্রযুক্তির বিবর্তনের ফলে আবিস্কার হয় নতুন যন্ত্রপাতি। এতেই কালের গর্ভে হারিয়ে যায় রেডিও নামক অতি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। পাশাপাশি হারিয়ে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চিঠি। এখন আর ব্যবহার হয়না তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ও জরুরী ক্ষুদে বার্তা প্রেরণের একমাত্র মাধ্যম টেলিগ্রামের। কালের পরিক্রমায় নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফসল ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির প্রভাবে রেডিও নামক বস্তুটি বিলুপ্তির পথে। একসময় নতুন প্রজন্মের কাছে রেডিও একটি অচেনা যন্ত্র হয়ে থাকবে। আর কিছুদিন পর এগুলোকে যাদুঘরে খুঁজে পাওয়া যাবে।
রেডিও বা বেতারযন্ত্র হচ্ছে তারবিহীন সংবাদ প্রাপ্তি ও বিনোদনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তডড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষপ্রান্তে অনেক দেশের বিজ্ঞানী প্রায় একই সময়ে বেতার আবিষ্কার করলেও গুলিয়েলমো মার্কোনিকে বেতার আবিষ্কারক হিসেবে ধরা হয়। এটি পূর্বে শুধু রেডিও হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বেতার প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এরমধ্যে রেডিও (বেতার), টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনসহ এসব তারবিহীন যোগাযোগের মূলনীতিই হল বেতার।
একসময় ধর্মীয় শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সংস্কৃতি, আবহাওয়া সংবাদসহ বিভিন্ন তথ্য প্রাপ্তির একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। অতীতের রেডিও, রঙ্গিন খামের চিঠি ও টেলিগ্রামের স্থানটি এখন পুরোপুরি দখলে নিয়েছে মোবাইল ফোন নামের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। এখন যেমন সকলের হাতে হাতে মোবাইল সেট, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল লাইসেন্সকৃত রেডিওর ব্যবহার। আমাদের দেশে ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেডিও এর আনুষ্ঠানিক সম্প্রসার শুরু হয়েছিল।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনসাধারণের বিভিন্ন সংবাদ প্রাপ্তির একমাত্র মাধ্যম ছিল এই ড্রাইসেল চালিত রেডিও বা বেতারযন্ত্র। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তখনকার বেতার শিল্পীরা ভারত ভূখ-ে একটি অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। ওই বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিকামী বেতার শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধ রণাঙ্গনের সংবাদ প্রচার করতেন। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধাদের মাঝে শক্তি ও সাহস সঞ্চার হতো।
৭১ সালের ২৫ মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হওয়ার দিন থেকে ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি চালু হয়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দিন পর্যন্ত প্রতিদিন প্রচারিত হযয়েছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত চরমপত্র ছিল এম আর আখতার মুকুল রচিত ও উপস্থাপিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। ‘চরমপত্র’ এর প্রতিটি অধ্যায় রচনা ও পাঠ করতেন এম আর আখতার মুকুল। ‘চরমপত্র’ ছিল ব্যাঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ভরপুর একটি অনুষ্ঠান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এই অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দানের জন্য রচিত ও পরিবেশিত হতো। এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের শত্রু কবলিত এলাকার জনগোষ্ঠী ও ভারতে অবস্থানরত বাঙ্গালী শরণার্থীদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।
এপারে স্বাধীনতা পূর্ব পাকিস্তান ভূখ-ে মুক্তিকামী মানুষ যারা ছিলেন, তারা একান্ত আপন লোকজন নিয়ে লুকিয়ে, আড়ালে বসে রেডিওতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান “চরমপত্র” শুনতেন। সন্ধ্যার পর রেডিওতে যখন চরমপত্র প্রচার করা হতো

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন