বসুরহাটে মেয়র কাদের মির্জার উপস্থিতিতে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ-৪,আহত-৪০

0
8

জি-নিউজ ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট বাজারের তরকারি বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ চার জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ চার জনসহ আট জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই দল ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়র কাদের মির্জাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গুলিবিদ্ধরা হচ্ছেন- উপজেলার চরফকিরা গ্রামের নয়াব আলীর ছেলে ও বার্তাবাজার টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজ্জাকির, বড়রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত ও বসুরহাট পৌর এলাকার আবুল কালামের ছেলে রায়হান।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে আছেন চরফকিরা ইউনিয়নের মো. কাঞ্চন, মুছাপুর ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে মাসুদ, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের ছেলে কামরুল হাসান, চরফকিরা ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ এবং বসুরহাট পৌর এলাকার আদনান ও মারুফ।

তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ চার জনসহ গুরুতর আহত আট জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান, কাদের মির্জা বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জানুর রহমান বাদল পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট বাজারে শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী বাদলের অনুসারীরা বিকেলে চাপরাশীরহাট বাজারে মিছিল করতে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কাদের মির্জা। তার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়; এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

চরফকিরা গ্রামের বাহাদুর জানান, কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক মুজ্জাকির। এ সময় গুলিতে তিনি আহত হন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ চার জনসহ আহত আট জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন