বসুর হাঁটের পর শ্রীপুর পৌর ৪নং ওয়ার্ডে সহায়তা নিতে এসে ঘাড়ধাক্কা পেলেন ২ প্রতিবন্ধী!

0
544

বসুর হাঁটের পর শ্রীপুর পৌর ৪নং ওয়ার্ডে সহায়তা নিতে এসে ঘাড়ধাক্কা পেলেন ২ প্রতিবন্ধী!

স্টাফ রিপোর্টার্সঃ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের শেষ প্রান্তে “কালা হামিদের টেক” নামক টিলায় জড়াজীর্ণ টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে ৫ সদস্যের একটি প্রতিবন্ধী পরিবার বাস করে। স্থানীয় কাউন্সিলরের বাড়ীতে সকলের সাথে সরকারি সহায়তা আনতে গেলে সেই পরিবারকে সাহায্যের বদলে ভিজিএফ কার্ড রেখে দেয়া এবং দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় –
এই পরিবারের মা এবং ছেলে দুজনেই প্রতিবন্ধী! একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম(৪৫) পেশায় একজন দিনমজুর। লকডাউনে কাজ বন্ধ! কিন্তু ৫ জনের ক্ষুধা তৃষ্ণা বন্ধ হয়নি, ঘরে নেই কোনো খাবার! পাশের বাড়ীতে জানতে পারে স্থানীয় কাউন্সিলরের বাড়িতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে। রিকশা ভাড়ার টাকাও হাতে নেই, তাই সাইফুল মিয়া ভোর ৫ টায় পায়ে হেঁটে রওনা হয় প্রতিবন্ধী স্ত্রী ফেরদৌসীকে নিয়ে। ফেরদৌসীর ডান পায়ে সমস্যা, চিকন হয়ে বেকে যাওয়ায় হাঁটতে হয় সাবধানে, খুড়িয়ে খুড়িয়ে। তবুও জীবন বাঁচানোর তাগিদে যেতে হয়, সেখানে পৌছে দুজনে দুটো কার্ড সংগ্রহ করে। কিন্তু খটকা বাজে নাম ঠিকানা নিয়ে। ওদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড নেই বলে দায়িত্ব রত লোকজন কার্ড নিয়ে যেতে বলে। দীর্ঘ ৫ মাইল পায়ে হেঁটে কিভাবে আইডি কার্ড নিয়ে যাবে তা ভেবে পায়না সাইফুল, অনুনয় বিনয় করতে থাকে। ফলে যা হবার তাই হয়, তার কার্ড রেখে দিয়ে বের করে দেয়া হয় তাদের।

অসহায় হয়ে পরিবারটি তাদের পরিচিত কাঠ ব্যবসায়ী হারুনের কাছে ফোন দিয়ে কথা বলতে বলে ওখানে দায়িত্ব পালন করা জালাল নামক একজনকে। জালাল ঘাড়ধাক্কা দিয়ে গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। যাবার সময় বাচ্চাদের ঘুমে রেখে আসা বাচ্চাদের অসহায় চেহারা, সেই সাথে পেটের ক্ষুধায় কাতর দুটো অসহায় মানুষ ফিরে আসে রিক্তহাতে। গরীব হওয়াই তাদের অপরাধ হয়েছে, তাই ঘরে ফিরেই প্রতিবন্ধী মা তার প্রতিবন্ধী ছোট শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে যখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে তখন একজনের চোখে পড়ে সেই কান্না। ঐ লোকের দেয়া ঠিকানা নিয়ে সরিজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা মেলে। শুধু তাই নয়, এই পরিবারটি কোনো রকম নাগরিক সুযোগ সুবিধা পায়নি এখন পর্যন্ত। নেই বসবাসের উপযুক্ত কোনো পরিবেশ সেই বসতভিটায়, নেই টয়লেট, নেই পানির ব্যবস্থা এমনকি বিদ্যুৎ পর্যন্ত পৌঁছেনি এই বাড়িতে।
এ বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন-
জালাল নামের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের কার্ড রেখে চরম অপমান অপদস্ত করে বের করে দেয়। প্রতিবন্ধী মহিলার এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, জালাল নামে আমার কোনো লোক নাই।

বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় আরেক সাংবাদিকের নাম্বার থেকে ফোনকরে তিনি তার বক্তব্য প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষের কিছু মানুষ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে – ওনার পক্ষে এসব করা কিছুতেই সম্ভব নয়।

আপনার নিয়োগ করা দায়িত্বরত লোকজন তাদের কার্ড রেখে দিলেন কেন? এ বিষয়ে কি বলবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
আমার বোন মারা যাওয়ায় মনখারাপ ছিলো, তাই কিছু মানুষকে খুব ভদ্রভাবে গায়ে হাত বুলিয়ে আগামীকাল আসতে বলেছি। তবে একটা প্রতিবন্ধী পরিবারকে – অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং ভোটার আইডি কার্ড না থাকায়- ওদের কার্ড রেখে দিতে বলেছি। আগামীকাল ভোটার আইডি নিয়ে আসলেই সহায়তা দেয়া হবে। তবে আগে আমার ওয়ার্ডের লোকজন পাবে, কারণ এটা সরকারি হিসাবের বিষয় আছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাগেছে ঐ পরিবারটি আপনার নির্বাচনী এলাকার এবং ওখানে আপনার নির্বাচনী পোষ্টার এখনো দেয়ালে ঝুলছে – প্রতিবেদকের এমন কথায় তিনি বলেন, রাতে আরও দুই গাড়ী চাউল আসবে, আগামীকাল আসলেই সহায়তা করবো।

পৌরসভা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে আনোয়ার হোসেন জানান, আশা করছি মাননীয় কাউন্সিলর মহোদয় নিজ দায়িত্বে খাদ্য সহায়তা নিয়ে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াবেন। কারণ তিনি একজন মানবিক কাউন্সিলর হিসাবে পরিচিত সর্বমহলে। আমরা মনেকরি, মানুষের পাশে মানুষকেই দাড়াতে হবে, এই আকালে। ভেতর থেকে ভালো থাকতে হবে আমাদের চারপাশের সকল মানুষকে নিয়ে , নিরাপদে থাকতে হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে। আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। আগামীকাল সকালে আবারও ৫ মাইল হেঁটে এই প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে সহায়তা চাইতে যাবার কথা বলাটা কোনো যৌক্তিক কথা নয়! পরিবারটি সেই অবস্থায় নেই। আর তাই ওদের রাতের খাবার সহ আগামী একসপ্তাহ যাতে খেতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি। সেই সাথে “৩৩৩” নাম্বারে ফোন করে সরকারের সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও করবো।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন