বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পঙ্গু “নদীকে” আর্থিক সহায়তা দিলেন ফজল উদ্দিন তালুকদার

0
5

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পঙ্গু “নদীকে” আর্থিক সহায়তা দিলেন ফজল উদ্দিন তালুকদার“নদীর” দেহে দু’টি কৃত্রিম পা সংযোজন করলে সে আবারও পড়া-লেখার সুযোগ পাবে।

এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমি এন্ড হাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী “নদী আক্তার” তার দেহে দু’টি কৃত্রিম পা সংযোজন করতে পারলে সে চলাফেরা করতে পারবে আবারও পড়া-লেখার সুযোগ পাবে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পঙ্গু ছাত্রী “নদী আক্তারকে” আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ফজল উদ্দিন তালুকদার। প্রায় ৫ মাস আগে দু’পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে মেধাবী এ মেয়েটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ফজল উদ্দিন তালুকদার, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পঙ্গু নদী আক্তারকে দেখতে যান। নদীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেয়ার পরে তার হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলকে নদী আক্তারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের রফিক মিয়া কন্যা নদী আক্তার তার প্রতিবেশী মর্জিনা খাতুনের বাসায় বেড়াতে যায়। এ সময় সে ওই বাসার ছাদে খেলতে গিয়ে সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারের সাথে নদীর দুই পা জড়িয়ে পড়ে। এতে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত নদী সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তার শারিরীক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এর পর (২৭ মে ২০২০)সিলেট থেকে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে তাকে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এক পর্যায়ে ৪ জুন চিকিৎসার প্রয়োজনে ডাক্তাররা হাঁটুর নীচে তার দুটি পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এর ফলে নদী আক্তার চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। থেমে যায় নদীর পথ চলা।

দুর্ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন নদী আক্তারের চিকিৎসায় অর্থের যোগান দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তার পিতা রফিক মিয়া। রফিক মিয়া তার জায়গা-জমি বিক্রি করে, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-কর্জ নিয়ে নদীর চিকিৎসায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। দরিদ্র পিতার পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয়-ভার বহন করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, উন্নত চিকিৎসার অভাবে নদী এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। এখন নদী আক্তারের প্রয়োজন একজোড়া কৃত্রিম পা। এই মূহুর্তে নদী আক্তারের দেহে দু’টি কৃত্রিম-পা সংযোজন করতে পারলে সে আবারও চলাফেরা করতে পারবে, আবার পড়া-লেখার সুযোগ পাবে সে। তাই শায়েস্তাগঞ্জসহ দেশ/বিদেশের সম্পদশালী, দানশীল ও সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল নদী আক্তারের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদানে পাশে দাঁড়াবেন এটাই প্রত্যাশা করে নদী আক্তারের পারিবার।।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন