ময়মনসিংহের ভালুকায় কারখানা থেকে রহস্য জনক মালামাল চুরিতে,ফেঁসে গেলেন নিরীহ শ্রমিক!?

0
32

সাকিব হাসান প্রিয়াস (ময়মনসিংহ) ভালুকা থেকেঃ ময়মনসিংহের ভালুকা থানার জামিরদিয়া মাষ্টারবাড়ী এলাকার (এন আর) গ্রুপের আরিফ নীট স্পিনিং কারখানায় রহস্যজনক চুরি হয়েছে। কারখানায় লোডার পদের শ্রমিক ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার খারুয়া গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের সন্তান বকুল মিয়া ফেঁসে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবারের স্বজনরা।

ওই কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুজ্জামান তালুকদার বিদ্যুৎ বাদী হয়ে গত (১১জুলাই ২০২০) ভালুকা মডেল থানায় বকুল মিয়ার নাম উল্লেখ করে অচেনা ১৫থেকে ২০জনকে অভিযুক্ত করে মামলা-১৭ দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ইংরেজি (১৬ নভেম্বর ২০১৯) থেকে চলতি বছরের (১০ জুলাই ২০২০) পর্যন্ত অভিযুক্ত বকুল মিয়া ওই কারখানায় কর্মরত থেকে প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার মালামাল কারখানার কেন্দ্রীয় ভান্ডার চুরি করে। পরে বকুলের সহকর্মী বাচ্চু মিয়া ঘটনাটি দেখে কারখানার নিরাপত্তা বাহিনীকে জানালে দুটি জেনারেটরের প্লাগ যার (মূল্য ২৮ হাজার ) টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে ওই শ্রমিক ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, মামলার এজাহারে হ-য-ব-র-ল তথ্য। মামলার বাদী কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুজ্জামান তালুকদার বিদ্যুৎ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কারখানার কেন্দ্রীয় ভান্ডারে কোন সিসি ক্যামেরা ছিল না। নিরাপত্তা প্রহরীদের কথাই ও তার সহকর্মী বাচ্চু বিষয়টি অবগত করলে পরবর্তীতে তাকে আইনের আওতায় তুলে দেওয়া হয়। প্রকৃত পক্ষে বকুল মিয়া চোর কিনা! ওই কর্মকর্তার কথায় ফুটে উঠেনি। তবে স্পষ্ট একটি বিষয় উঠে এসেছে বকুল মিয়া কারখানায় চাকরিতে যোগদান করেছে চলতি বছরের ০২ জুন, এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী কারখানা কর্তৃপক্ষের ওই কর্মকর্তা। তবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে তার যোগদানের তারিখ গত বছরের ইংরেজি (১৬ নভেম্বর ২০১৯)। প্রকৃতপক্ষে মামলার এজাহারে যে ঘটনাটি লেখা হয়েছে যোগদানের তা সম্পূর্ন মিথ্যা। তবে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন কেউ যেন হয়রানি না হয়। কারখানার ‘কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, আমি নিজেও সন্দেহের আওতায় কিংবা আমি সন্দেহের বাইরে নয়’।

বকুল মিয়ার স্ত্রী হুসনা বেগম জানান, আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার বিবরণের সাথে প্রকৃত ঘটনার কোন মিল নেই, ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ কাজল হোসেন জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। মামলার এজাহারে যোগদানের তারিখ উল্টাপাল্টা এবিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, মামলার চার্জশিটে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। তদন্তে বকুল যদি অপরাধী না হয় তবে সে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন