শত প্রতিকূলতার মাঝেও সেবা দিচ্ছে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস!

0
9

হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে গড়ে উঠেছে একাধিক শিল্প কারখানা। দিনদিন শিল্প কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে কর্মজীবী মানুষের চাপ। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা-দুর্ঘটনাও। এ বিশাল শিল্পাঞ্চল ও ঘন জনবসতিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।
এসব দুর্ঘটনার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় স্থাপন করা হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। এরপর থেকেই চব্বিশ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এ উপজেলা ছাড়াও আশেপাশের উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের খবর আসলে ছুটে চলেন এ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। এভাবেই অল্পদিনের ভেতরে মানুষের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন।

ইতোমধ্যেই নাগরিক সেবা আর নিজেদের কর্মদক্ষতায় প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। এজন্যই শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটির আয়তন ও লোকবল বর্ধিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সি গ্রেড থেকে বি গ্রেড এ উন্নীত হওয়ার কারণে বর্তমান জায়গায় আর সংকুলান হচ্ছে না। পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জ শিল্পনগরী হওয়ার কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি তথ্যে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা মহাসড় চারলেনে উন্নীত করা হলে এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অনেকটা জায়গাই মহাসড়কে বিলীন হয়ে যাবে। সেজন্য দ্রুত স্টেশনের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস শায়েস্তাগঞ্জ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৪ জন অপারেশন স্টাফ, একজন ঝাড়ুদার, একজন বাবুর্চিসহ মোট ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অগ্নিকান্ডে ২৮ জন মানুষ আহত হয়েছেন আর মারা গেছেন ৪ জন। এছাড়া একই সময় পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জে ২৪ টি অগ্নিকান্ড ও ২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার তিনশত টাকা। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কর্তৃক উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য ৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস শায়েস্তাগঞ্জের কর্মকর্তারা বলছেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের চুনারুঘাট, মাধবপুর ও হবিগঞ্জের সদর উপজেলাতে দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্ঠা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন নেভানো পাশাপাশি চলে উদ্ধার কাজ। সেজন্য ব্যবহার করা হয় টিটি গাড়ি। এই গাড়ি মালামাল ও যন্ত্রপাতি উদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া আহতদের জন্য থাকে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য এটি কাজে লাগছে।

শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি মানুষের সেবা দিতে। নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা সব সময় শতভাগ সেবা দিতে পারি না, তবে চেষ্টা করে যাই। আমরা মনে করি এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমরা যে অফিসটিতে আছি সেখানে লোকবল আরও প্রয়োজন। তবে লোকবল থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে আমাদেরকে অনেক সময়ই মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখানে লাইনের গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমাদেরকে রান্নাবান্নার কাজে অনেক সময় নষ্ট করতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন হবিগঞ্জ জেলার ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর শিমুল মোহাম্মদ জানান, এটি সি গ্রেড থেকে বি গ্রেড এ উন্নীত হওয়ার কারণে আমাদের জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। এছাড়া এটি শিল্পনগরী হওয়ার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। ফলে জনবল এবং অবকাঠামো বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ জুলাই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশেই বিরামচর কলাপাড়ার জগন্নাথপুর মৌজায় শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। আর ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্টেশনের উদ্বোধন করেন।##

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন