শায়েস্তাগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ

0
9

এম হায়দার চৌধুরী। শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :: আজ ৮ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ মুক্ত দিবস। আজ থেকে ৫০ বছর পূর্বে ১৯৭১ সালের আজকের এইদিনে শায়েস্তাগঞ্জ, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল।

তাই এদিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরই নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এবারও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনটিকে বরণ করা হবে।

৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের এ দিনই শত্রুমুক্ত হয়েছিল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ । সেদিন মুক্তিকামী জনতা আকাশে উড়িয়ে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান। এরমধ্যেই অতিবাহিত হয়েছে ৫০টি বছর।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক ঢাকায় গণহত্যা শুরু হয়। এর পরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে গড়ে তোলেন প্রবল প্রতিরোধ ও দুর্ভেদ্য ব্যুহ। হানাদার বাহিনীর আগমন ঠেকাতে বৃহত্তর সিলেটের সাথে সারাদেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিছিন্ন করার লক্ষ্যে মুজিব বাহিনী উড়িয়ে দেয় শায়েস্তগঞ্জের পুরাতন খোয়াই সেতু। বিভিন্ন স্থানে রেল পথেও প্রতিবন্ধকতা তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হয়।

একাত্তরের ২৯ এপ্রিল হঠাৎ করেই দানব রূপী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শায়েস্তাগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। তারা এখানে অবস্থান নিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর চালায় নির্মম অমানুষিক অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ। পাকবাহিনী নিজেদের যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য খোয়াই নদীতে একটি ফেরী চালু করে ও ভাঙ্গা সেতুটিও মেরামত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী বয়োজ্যেষ্ঠদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে খোয়াই রেল সেতুর উপর থেকে কখনও গুলি করে আবার কখনও হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিত পাকিস্তানি হায়েনার দল।

অবশেষে ১৯৭১ এর আজকের এইদিনে (৮ ডিসেম্বর) সিলেট থেকে পাকিস্তানী বাহিনী সড়ক ও রেলপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। একই সাথে অন্য আরেক দল সেনা আসবে বলে শায়েস্তাগঞ্জ থেকেও লেজ গুটিয়ে পলিয়ে যায়। সেদিনই এলাকার সর্বস্থরের মানুষ বিজয় উল্লাস করতে রক্তিম সূর্য়ের মাঝখানে মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে বেরিয়ে পরে রাস্তায়। জয়বাংলা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে শায়েস্তাগঞ্জকে।

উল্লেখ্য শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ববড়চর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষিত রয়েছে সিলেট বিভাগের প্রথম ২ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ হাফিজ উদ্দিন ও শহীদ মহফিল হুসেনের সমাধি।

এছাড়া দাউদনগর বাজার রেলগেইট সংলগ্ন দিঘীর পাড় নামক স্থানে রয়েছে একটি বধ্যভূমি। এ বধ্যভূমিতে ১১ জন চা শ্রমিক ও কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে গণহত্যার পর সমাহিত করা হয়। এ এলাকার মানুষ পরম শ্রদ্ধা ও অতিযত্নে সংরক্ষণ করছে এ সমাধি ও বধ্যভূমিকে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন