শায়েস্তাগঞ্জের ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা !

0
4

শায়েস্তাগঞ্জের ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা !

এম হায়দার চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ):: দেশব্যাপী (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সরকার কর্তৃক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিও রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও জনসাধারণের অসচেতনতার কারণে সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশিজনিত রোগীদের করোনার উপসর্গ দেখা গেলেও কোয়ারেন্টিন ভীতির কারনে কেউই কোভিডটেস্ট করাতে আগ্রহী নন।

জানা যায়, সাধারণ জনগণ স্বাস্থবিধি মেনে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার না করায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। এতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাতে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দৃশ্যত এটি করোনারভাইরাসের লক্ষণ হলেও এলাকার নাগরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে আগ্রহী না হওয়ায় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না এরা করোনা আক্রান্ত কিনা।

এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার নজির থাকলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে নেই এর প্রভাব। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন মানুষের অসচেতনতার কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তদুপরি সুস্পষ্ট করোনার লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও কেউ করোনা টেস্ট করাতে আগ্রহী নন। সাম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি কাশিজনিত রোগবালাই। উপজেলা পর্যায়ের লোকজন স্বাস্থবিধির তোয়াক্কা না করেই দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

বুধবার (১৪ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক। বিশেষ করে সচেতন অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। শায়েস্তাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপজেলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রচুর রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর মাঝে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল না থাকায় অনেকেই হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার ভুক্তভোগী অভিভাবক জুনাইদ চৌধুরী জানান, তার পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ সম্প্রতি জ্বর, সর্দি কাশিজনিত রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আবার অন্যরা একই উপসর্গ নিয়ে জ্বর, সর্দিতে ভোগছেন। তিনি আরও জানান, এ সংকটময় সময়ে দাউদনগর বাজারের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা: অনুকুল দাস এর চিকিৎসা ও পরামর্শে তার রোগীর উপশম হয়েছে। ডা: অনুকুল দাস রোগীর উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। রোগীও আরোগ্য লাভ করছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা রোগী মাহমুদ হোসেন বলেন, তিনি গত ৩ দিন থেকে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছেন, ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছেন এবং ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। একই উপসর্গ নিয়ে শত শত রোগীর ভিড় দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ফার্মেসি ও উপজেলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। এ ব্যাপারে ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. ফজলুল হক জানান, গত একমাস ধরে প্রচুর পরিমানে মানুষ জ্বর সর্দি-কাশি, গলাব্যথার ওষুধ নিতে আসেন। দেশে করোনা সংক্রমন আসার পর থেকেই এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক গুণ। তিনি আরো জানান, উপজেলার অনেকেই করোনায় আক্রান্ত আছেন। কিন্তু টেস্ট না করায় এদের করোনা পজিটিভ হয়নি। আমরা ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওষুধ বিক্রি করছি।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, যদিও আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই, তবুও সকাল থেকে রোগীদের ভিড় থাকে। আমি আজ ৪০-৫০ জন রোগী দেখেছি। এর মাঝে ২০-২৫ জনই সর্দি, জ্বর, কাশিতে ভুগছিলেন। শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা হওয়ায় এখনো হবিগঞ্জ সদরের সাথেই করোনার রোগীর হিসেব করা হয়ে থাকে। তাই শায়েস্তাগঞ্জে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, কোভিড-১৯ টেস্ট পজেটিভ হলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, এ সমস্যা এড়াতে উপজেলা পর্যায়ের লোকজন টেস্ট করাতে আগ্রহী নন। বিভিন্ন উপায়ে বার বার প্রচার করিয়েছি, করোনার লক্ষণ দেখা দিলে টেস্ট করার জন্য এবং সঠিক চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য। কিন্তু এখনো মানুষের মাঝে অসচেতনতাবোধ কাজ করছে, যা খুবই দুঃখজনক ও বিপদজনক।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন