শ্রীপুরে চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

0
108

প্রতিনিধি, শ্রীপুর, গাজীপুর:
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার আলহেরা হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বামী। গত ২৬ মে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ১ নম্বর আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের হয়।

অভিযুক্ত দুজনের একজন হলেন, আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিকিৎসক আবুল হোসেন। অপর অভিযুক্ত হলেন হাসপাতালটির কনসালটেন্ট আয়েশা সিদ্দিকা। মামলার বাদি মিথুন খান নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার মজিদ খানের ছেলে। তার স্ত্রী মোসা. খাদিজা আক্তার (৩২) ওই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুজন চিকিৎসক দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

দায়ের মামলা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ সকাল দশটার দিকে সন্তান সম্ভবা হিসেবে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একই দিন রাত দশটার দিকে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। পরে ২২ মার্চ তারিখে মা ও সদ্যজাত শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর তার স্ত্রীর রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাকে আবারো আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থেকে রোগীকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা। এরপরও খাদিজার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তাকে ১৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর জরায়ু কেটে ফেলা প্রয়োজন বলে মতামত দেন। জীবন বাঁচানোর স্বার্থে চিকিৎসকরা খাদিজার জরায়ু কেটে ফেলেন। এরপর ২৮ এপ্রিল তারিখে রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তিনি বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এই পরিস্থিতিতে খাদিজা আক্তারের স্বামী মিথুন খান আলহেরা হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো তথ্য না জানিয়ে বরং সংশ্লিষ্ট দুজন চিকিৎসক মিথুনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

মামলার বাদী মিথুন খান বলেন,

মামলা ও পুরো ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য জানতে আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালতে গড়িয়েছে, আইন অনুযায়ী সেখানেই নিষ্পন্ন হবে। তবে তিনি বলেন, ‘ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ’।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন