শ্রীপুরে দাওয়াতপত্রে আ’লীগ নেতার নাম না দেয়ায় মারধরের শিকার স্কুল শিক্ষক

0
2

শ্রীপুরে দাওয়াতপত্রে আ’লীগ নেতার নাম না দেয়ায় মারধরের শিকার স্কুল শিক্ষক।

রমজান আলী রুবেল, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি.

দাওয়াত পত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম না দেওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান। এ ঘটনার জেরে স্কুলে প্রবেশ করে এক শিক্ষককে মারপিটও করা হয়। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিনব্যাপী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠান চলার কথা। ইতিমধ্যে ক্রীড়া অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের সরঞ্জাম কেনার কাজ শেষ হয়েছিল। রোববার দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়,শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে। একটি ক্লাস শেষ হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুল মাঠে এলে খেলা হবে কিনা জিজ্ঞেস করতেই তাদের মন খারাপ করা উত্তর ‘ খেলা হবে না । বন্ধ করে দিছে। এই বছর আর আমাদের খেলা নাই ‘

স্কুলটির শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম সরকার তার কয়েকজন সঙ্গীসহ স্কুলে আসেন। তখন স্কুলে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। সেখানে এসে ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম না থাকা নিয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা শিক্ষকদের এই ক্রীড়া অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলে স্কুল থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে সিড়ির নিচে ডেকে নিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন রোববার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ তাদেরকে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলিনি। স্থানীয় নেতাদের কাউকে ওই অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি। এটি খুবই আপত্তিকর। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।।

প্রসঙ্গত, বার্ষিকী ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত পত্রে প্রধান অতিথি করা হয়েছে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. আনিছুর রহমানকে। এ ছাড়া এতে বরেণ্য অতিথি হিসেবে নাম আছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহমুদ হাসান মুকুল ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভুইয়ার। বিশেষ অতিথি শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পারুল খানম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আমজাদ হোসেনকে রাখা হয়। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে একজন শিক্ষককে মারধর ও অনুষ্ঠান বন্ধ করতে শাসিয়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

স্কুল পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে স্কুলের ভিতরে ঢুকে শিক্ষককে মারপিট করেছে তারা। অবশ্যই শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার হওয়া উচিত।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোভন রাংসা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এর আগে মৌখিকভাবেও বিষয়টি সেখানকার প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়ে ছিলেন। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন