গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে রুমা নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার ০৬ মার্চ বিকেলে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া বাজার এলাকায় পারটেক্স গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শারমিন আক্তার রুমা নেত্রকোনা জেলার জয়নগর গ্রামের সাহেব আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত রুমার স্বামী রতন মিয়া(৪০) একই এলাকার মরম আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বোনের মেয়ে খোদেজা জানান,খালা রুমা কে নিয়ে খালুর বাসা থেকে কাপড় আনতে যাই। চলে আসার সময় খালু পেছন থেকে খালাকে ডাকতে থাকে। তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ থাকায় খালা না দাড়িয়ে চলে আসতে থাকেন। এ সময় খালো ছুড়ি হাতে নিয়ে বলে তোকে মারার জন্য বানিয়েছি। পরে মুহূর্তে দৌড়ে এসে খালাকে পেছন থেকে ছুড়িকাঘাত করে। খালা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। খালু দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, রতন মিয়ার স্ত্রী সন্তান রয়েছে।
রুমার তার দ্বিতীয় স্ত্রী। রুমার সন্তানদের হত্যার ভয় দেখিয়ে তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করে রতন। চার বছর পূর্বে তিন সন্তানের জননী রুমাকে বিয়ে করে রতন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। রুমা তার ছেলেদেরকে নিয়ে পৃৃথক বাসায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।পারিবারিক বিরোধের কারণে রতন রুমাকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করে।
নিহতের ছেলে আশিক জানান, ওই লোকটা আমাদেরকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বাবাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করে। আমাদের বাঁচাতে মা, বাবাকে ডিভোর্স দেন। নিরুপায় হয়ে ওই লোকটাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। সে প্রায় সময়ই আমার মাকে মারপিট করত। আমরা তিন ভাই মাকে নিয়ে আলাদা বাসায় ভাড়া থাকি। পারিবারিক কলহের কারণে ওই লোকটা আজ আমার মাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোঃ আল নাফিজ জানান,বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ওই নারীকে স্বজনরা মৃত অবস্থায় নিয়ে আসে।তাৎক্ষনিক আমরা পুলিশের খবর দেই।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহত রুমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত রতন মিয়া পলাতক রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।