শ্রীপুর পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে জনগণের ব্যাক্তিগত চাঁদার টাকায় উদ্বোধনীতে মেয়র কাউন্সিলর

0
39

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শ্রীপুর পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে জনগণের ব্যাক্তিগত চাঁদার টাকায় উদ্বোধনীতে মেয়র কাউন্সিলর!

গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখন্ডে বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট হারিছ উদ্দিন সড়কে চলছে পৌরসভার ড্রেনেজ নির্মাণের উন্নয়ন কাজ ! এলাকার সচিব মোড় থেকে আসপাডা রোডের উকিলবাড়ী মোড় হয়ে দক্ষিণ দিকে বোরহান উদ্দিনের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় ড্রেনেজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। নেই কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান,নেই কোনো দক্ষ প্রকৌশলী,নেই কোনো দালিলিক দায়বদ্ধতা -এলাকাবাসীর অর্থয়ন এবং তদারকিতেই গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পৌরসভার ফান্ড থেকে অর্থ বরাদ্দের কথা থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি,এলাকার জনগণের চাঁদার টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে!

সরজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট হারিছ উদ্দিন সড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে! চলছে গভীর খননের মাধ্যমে ড্রেনেজ প্রকল্পের পাইপ রড ঢালাইকরার কাজ! গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে খননকাজ চালানোর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েগেছে! চরম জনদূর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকার শ্রমজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা!

জানা যায় গত ০২-১১-২০২০ ইং তারিখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পৌর মেয়র আনিসুর রহমান এই ” ড্রেনেজ প্রকল্পের” উদ্বোধন করেন! এর পরেই রাস্তার মাঝ বরাবর খননের কাজ শুরু হয়! কিন্ত পৌরসভার ভেতর এতো বড় ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী সহ পৌর প্রশাসনের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানিয়েছেন ! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান এসব বিষয়ে মাননীয় মেয়র মহোদয় নিজের মন মর্জিকে প্রাধান্য দেন,কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননা! তিনি আরও বলেন- পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে হবে পৌরসভার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে অর্থাৎ বিধিমত দরপত্র আহ্বান সাপেক্ষে পৌরসভার তালিকাভূক্ত ঠিকাদারগন এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন যা হলো বৈধ কর্মপদ্ধতি! এর বাইরে পৌরসভার কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধি বহির্ভূত কাজ যা দুর্নীতির শামিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর নির্ধারিত হারে চাঁদা ধার্য্য করে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের বৈধতা রয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন! মেয়র মহোদয় সবচেয়ে ভালো জানেন বলে তিনি তার পরিচয় ও বক্তব্য প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিলাল উদ্দিন দুলালকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কেওয়া গাড়ো পাড়ায় অবস্থিত অফিসে দেখা করতে বলেন এই প্রতিবেদককে। এ বিষয়ে ফোনে কিংবা মেয়র মহোদয়ের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে চাননা তিনি!

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত করার কথা বলেন কথায় কথায় অথচ আমাদের পৌরসভার ড্রেন নির্মানে টাকা দিতে হচ্ছে ৭০ হাজার করে নিজেদের পকেট থেকে! উন্নয়ন কি শুধু চাপাবাজী আর পত্রপত্রিকায়? আমাদের উন্নয়ন গেলো কৈ ? গত বিশ বছর ধরে পৌরসভা নাগরিক সুবিধা দেয়নি কিছুই এখন আবার নিজেদের চাঁদা তুলে কাজ করতে হচ্ছে। নিজেরাই যদি পৌরসভার কাজ করি তবে নামের পৌরসভা,বেহুদা নৌকা আর আওয়ামী লীগের কি দরকার আমাদের? একটা ক্লাব বা সমিতি করলেই তো ভালো হয়! জাহাঙ্গীর (৩৫) নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন প্রত্যেক বাড়ী থেকে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়েছে,আমি সহ অনেকেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি বাকী টাকাও পরিশোধ করতে চাপ দেয়া হচ্ছে আমাদের। আরও কথা বলেন এলাকার বাসিন্দা ফজর আলী মোল্লা (৬০), ইলিয়াস (৪০) নামের স্থানীয় মুদিদোকান মালিক ও বাড়ীওয়ালা। তারা ৭০ হাজার টাকা ধার্য্যকৃত চাদার ২০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করেছেন বলে স্বীকার করেন। এই চাঁদা কে বা কারা নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ফজর আলী মোল্লা যে কয়েকজনের নাম বলেন তারা হলেন-
১# ইসলাম উদ্দীন ২# আফাজ উদ্দীন ৩# প্রফেসর হারুন ৪# সিদ্দিক মোক্তার ৫# হাদিউল ৬# বোরহান ৭# জামান।
রমিজ উদ্দিন নামে সাবেক কাউন্সিলর বলেন পৌরসভা ঘটনের প্রায় ২০ বছর এবং দেশের সেরা পৌরসভার তালিকায় আছে আমাদের শ্রীপুর পৌরসভা অথচ এখানকার রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্টের দিকে তাকালে পৌরসভার পরিচয় দিতে লজ্জা হয়,গত কদিন আগে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি দূর করতে নিজ অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ করে দেয় যা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে সবাই জানতে পারে অথচ পৌর কর আদায়ে মাইকিং করে চাপ প্রয়োগ করে থাকে পৌর কতৃপক্ষ।

নিজেদের অর্থায়নে উন্নয়ন কাজ হলেও বাজেট ও খরচের কোন কমতি নেই এমনকি বার্ষিক অডিট টিমকে নাকি ১৬ লক্ষ টাকা ঘোষ দিয়ে অডিট রিপোর্ট ওকে করিয়েছে পৌর কতৃপক্ষ!
এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা এবং বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের শ্রীপুর পৌরসভা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রেজাউল ইসলাম রুবেল বলেন -যে পৌরসভায় পৌর কর পরিশোধের জন্য মাইকিং করে সময় বেধে দেয়া হয় সেই পৌরসভার ড্রেনেজ প্রকল্পের জন্য কেন পৌরবাসীর উপর চাঁদা ধার্য্য করা হবে। প্রতি বছরের একশত কোটি টাকার উপরে যে বাজেট হয়, সেই বাজেট কোথায় যায় তা খতিয়ে দেখা দরকার! প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার খরচ পৌরসভার ফান্ড থেকেই হওয়া যৌক্তিক, তা না করে পৌরবাসীর উপর কেন চাঁদা ধার্য্য করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে -তা তদন্তের দাবী জানাই। এবং এই অবৈধ ও বিধি বহির্ভূত কাজের সাথে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

মেয়র আনিসুর রহমানকে তার মুঠোফোন সংযোগ পেতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি এমনকি মেয়রের অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি। পৌরসভা সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক প্রফেসর এমদাদুল হক বলেন – চাঁদা তুলে উন্নয়ন করার কি প্রয়োজন, পৌরসভার ফান্ডের টাকা কোন কোন উন্নয়ন খাতে খরচ হয় তার জবাব দিহীতা নিশ্চিত করা জরুরী।বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি এই পৌরসভায় তাই এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে মেয়র মহোদয়ের সরে যাওয়া উচিত হবে তাতে পৌরবাসীরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে!

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন