শ্রীপুর প্রাইভেট হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনা থানায় মামলা,প্রত্যাহার করতে ভিকটিমকে হুমকি ৫ জনের বিরুদ্ধে আবারও জিডি

0
58

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী থানায় মামলা হলেও(মামলা নং ৩৫)১৬ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি,প্রভাবশালী আসামীপক্ষের কঠিন চাপের মুখে অবশেষে ভিকটিমকে ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। নতুন জায়গায় গিয়ে ভিকটিমকে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি!ভিকটিম নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আবারও ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন।

গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর মডেল থানায় ভিকটিম উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

রেকর্ডকৃত জিডি ও ভিকটিমের তথ্যমতে,জিডিতে প্রধান আসামী শাকিল প্রথান। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।পদ্ধা ডিজিটাল ডায়গনষ্টিক হাসপাতালের পরিচালক ও মামলার প্রধান আসামীর পিতা শহীদুলালাহ প্রথান সহ মোট ৫ জনকে আসামী করা হয়।

ভিকটিম জানায়,রফিকুল ইসলাম সহ একাধিক আসামীর কল রেকর্ড আছে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক( অপারেশন) গোলাম সবুর বলেছেন,আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত:গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপেজলায় ধর্ষিতা পোষাককর্মী এখন অন্ত:সত্বা।
ভিকটিমের ভাষ্যমতে,একাধিকবার ধর্ষণের মধ্যো দুইবার ধর্ষক তার বাবার মাওনা চৌরাস্তায় পদ্মা ডিজিটাল হাসপাতালে ডাক্তারের চেম্বারে ধর্ষণ করেছে।

প্রথম ধর্ষণের ভিডিও ফেরত ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে প্রায় চার বছর ধরে চলে ধর্ষণ। ভিডিও দেখিয়ে জিম্মি করে হাতিয়ে নেয় ভিকটিমের চার বছরের যাবতীয় উপার্জন(৮ লাখ টাকার বেশী)। অবশেষে অন্ত:সত্বার কথা বলায় ধর্ষক বিয়ের কথা বলে বাড়িতে নিয়ে পরিবারের লোকজন দিয়ে তাড়িয়ে দেয় ভিকটিমকে। এরপর থেকে ধর্ষক পলাতক। অত:পর একটি কলেজে হাসপাতালের পরিচালক কাম অধ্যক্ষ আপোষের কথা বলে একাধিকবার করেন দেনদরবার। টাকার বিনিময়ে ওই অধ্যক্ষ মামলা না করার জন্য চাপ দেয় ভিকটিমকে। অত:পর মামলা হলেও পুলিশ কোন আসামী ধরছে না। উল্টো ভিকটিমকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার মিশন চলছে। ফলে নিরাপত্তাহীন হয়ে ভিকটিম প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনাটি শ্রীপুর থানাধীন বেড়াইদের চালা গ্রামের।

ভিকটিম জানায়, ২৫ হাজার টাকা বেতনে তিনি এসকিউ নামক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন শাকিল প্রধাণ। সহকর্মীর পরিচয় থেকে ফোনে ও ফেসবুকে ঘনিষ্ঠতা। তারপর প্রেম। বিয়ের কথা বলে প্রথম ধর্ষণ। ধর্ষকের সহযোগী ৪ বন্ধু রাজিব,শামিম, সাখাওয়াত,সোহাগ করেন ধর্ষণের ভিডিও। আর এই ভিডিও দেখিয়ে ৪ বছর ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ। প্রাইভেট গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণের ঘটনা। বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের মধ্যো দুইবার ধর্ষণ হয় পদ্মা ডিজিটাল হাসপাতালে ডাক্তারের চেম্বারে।

পদ্মা ডায়গনষ্টিক হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের ৫ জন মালিক। ৫ জনের মধ্যো ধর্ষকের পিতা শহীদুল্লাহ প্রধান ও ফুফা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম দুইজনই পরিচালক। পরিচালকের ছেলে হিসেবে শাকিল প্রথান ডাক্তারের চেম্বার ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ম্যানেজার কামরুল হাসান।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন