হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দু’দল গ্রামবাসির সংঘর্ষে ১ বৃদ্ধা নিহত!

0
15

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দু’দল গ্রামবাসির সংঘর্ষে গোলাপজান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ দ্বিমুখি সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (২৬ মে) দুপুরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালিস বৈঠকের সময় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একই গ্রামের কাদির মিয়ার মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বুধবার সকালে একটি গ্রাম্য সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিসের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে প্রতিপক্ষের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ আলীর মা গোলাপজান মারা যান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও ১০ জন।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্র জানায়, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরের মধ্যে বাড়ির সীমানা ও জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচং থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে এ ঘটনাটি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেন।

গত বুধবার সকালে মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরকে নিয়ে এলাকার মুরুব্বীরা সামাজিক বিচারে বসেন। বিচারের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফিকলের আঘাতে মোহাম্মদ আলীর মা গোলাপ চান বিবি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলী তার মাকে কাদিররা হত্যা করেছে বলে শোর চিৎকার শুরু করে লোকজন নিয়ে কাদিরদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং-সার্কেল) এর নেতৃত্বে বানিয়াচং থানার ওসি এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজিত দাশসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় পুলিশের কাছে গোলাপ চান বিবি’র ছেলে মোহাম্মদ আলী জানান, কাদির মিয়া গং তার মা’কে ফিকল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন