হবিগঞ্জ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্য মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন

0
4

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবিগঞ্জ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্য মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বুধবার( ১২ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

হবিগঞ্জ জেলা বিসিক এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হোসেন জানান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে গিয়ে ১২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের সাথে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ থেকে এই মেলাটি বন্ধের কোনো নির্দেশনা তার নিকট এসেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবেই তিনি মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মেলা বন্ধের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেলায় স্টল মালিকেরা। বেশ কয়েকজন স্টল মালিকের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, মেলা বন্ধের কারণে বেশ লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারা। তবে হবিগঞ্জের সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন করোনাভাইরাস এর ওমিক্রণ ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ মেলাটি বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এছাড়াও মেলায় পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য রাখা, প্রবেশ মূল্য রাখা সহ নানা কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন মেলায় আগত অনেক দর্শনার্থী। উল্লেখ্য এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, স্টল বরাদ্দে আয়োজকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন উদ্যোক্তা ও স্টল মালিকরা। নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয় বলেও জানান তারা। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভূত নেয়া হয় প্রবেশ ফি। তবে কর্তৃপক্ষের নজরদারী কম থাকায় খাবার হোটেল ও বিভিন্ন পণ্যের দাম রাখা হয় আকাশ ছোঁয়া। বাইরের বাজারের তুলনায় বাণিজ্য মেলার অভ্যন্তরীন সব খাবারের দাম বেশি রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দর্শনার্থীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৮/৮ ফুট একটি স্টল হওয়ার কথা। কিন্তু তারা করেন ১০-১২ ফুট। মাসিক ১৬ হাজার ৫শ’ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা। গেটেও কোন টিকিট ফি নেয়ার কথা নয়। কিন্তু তারা নেন ২০ টাকা করে। আর স্টল ভাড়া চান মাসিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। ৫০টির বেশি স্টল বরাদ্দ দেয়ার কথা নয়।

অথচ শতাধিক দল তৈরি করা হয়। তাছাড়া মেলায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই সার্কাস, নাগরদোলা, ওয়াটার বেলুন এবং ভুতের বাড়িসহ নানা বিনোদনের নামে চলছে বিপদজ্জনক কার্যক্রম। আবার মাঠের বিশেষ অংশ দখল করে উচুঁ প্যান্ডেল তৈরি করে প্রদর্শন করা হয় অশ্লীল সার্কাস।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন