৩০ পারা কোরআনের হাফেজ তাজউদ্দীনআহমদ ছিলেন ১৫০০ টাকা সম্মানীর প্রধানমন্ত্রী

0
74

আমাদের একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যিনি কোরআনে হাফেজ ছিলেন! একজন সচিবের লেখায় পড়েছিলাম- শুক্রবারে দেখা করতে গিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী কলপাড়ে কাপড় কাঁচতেছেন। আজ এই লেখাটা পেলাম –

আমি একবার তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বাথরুমে ওটা কী ঝুলছে? তিনি বললেন, এটা ধুয়ে না শুকালে কাল কী পরে বাইরে যাব!’ তিনি প্রধানমন্ত্রী, অথচ তার একটিমাত্র কাপড়—এ কথাটি আগে তাে চিন্তা করিনি। আমার নিজের দুটি প্যান্ট ছিল, খুব ভাল না, তবুও তাে দুটো। আমি পরদিনই কাপড় কিনে তাঁর জন্য শার্ট-প্যান্ট বানিয়ে দিলাম। তাজউদ্দীন সাহেব কলকাতায় সরকারি কার্যক্রম চালাবার জন্য একটি পুরােপুরি সচিবালয়-ব্যবস্থা স্থাপন করে ফেলেছিলেন। ক্যাবিনেট, সংস্থাপন, অর্থ, ত্রাণ, স্বাস্থ্য প্রভৃতি আলাদা আলাদা বিভাগ। নিয়মমাফিকভাবে একটা দেশ চালাবার জন্য যা প্রয়ােজন তা হয়ত সেখানে ছিল না, কিন্তু যেটকুই ছিল সেটাকেই তিনি সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন ।
.
আর একটি ব্যাপার না বললেই নয়, সেটা হল, মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস তিনি পরিবারের সাথে বসবাস করেননি। এমনকি ছেলের কঠিন অসুখের সময় বাসায় যেতে অনুরােধ করলে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি এইসব আলাপ করতে আসেন তাহলে তাে দেশ স্বাধীন করে ফিরে যাওয়ার দরকার নাই। সােহেলকে নিয়েই আমি থাকি, আমার জন্য এইখানে একটা বাড়িঘর করে এখানেই থাকার ব্যবস্থা করেন। ভারত যদি আপনাদেরকে রাখার জন্য রাজি থাকে তাহলে সেই সংস্থান করে এখানেই থাকেন। সােহেলের মত তাে কত ছেলে আমার চারদিকে। তাই এটা নিয়ে আমার সঙ্গে আলাদাভাবে আলাপ করার প্রয়ােজন নাই।’ এই কথাটা তিনি যখন আমাকে বলছেন, তখন ওই মুহূর্তে আমার শ্রদ্ধা কোন পর্যায়ে পৌছেছে বলতে পারি না। তার একনিষ্ঠতা আমি তাে দেখেছি। নিজের চোখে দেখেছি, কত রকমের প্রতিকূল অবস্থার ভেতরে থেকে তিনি সমস্ত বিষয়ের সমাধান করে যুদ্ধটাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেলেন যে, আমরা স্বাধীনতা পেলাম, দেশে ফিরে আসবার সুযােগ পেলাম। আমি মাঝে মাঝে ভাবি, হয়ত তাজউদ্দীন সাহেবের একনিষ্ঠতার কারণেই আমাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ভারত মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছে। না হয় আমাদের মধ্যে যে গােলমাল-কোন্দল ছিল তা যদি তুঙ্গে নিয়ে তােলা হত তাহলে ভারতই বা কী করত সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।
.
দেশ স্বাধীন হবার দুই বছর দশ মাসের মাথায় হঠাৎ একদিন তাজউদ্দীন সাহেবকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হল। আমি এ খবর শােনার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার বাসায় গেলাম। অনেক লােকজন বাসায় ভর্তি। আমরা কয়েকজন তাকে উপরতলায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কী ব্যাপার, হঠাৎ এই ঘটনা? তিনি বললেন, এটা তাে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা। তিনি যখন খুশি তখন যে কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে পারেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন। আপনারা কেন আমাকে এই প্রশ্ন করছেন ? এটা প্রশ্ন করার মত কোন বিষয় না। মন্ত্রিসভার উপর তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।’ তাজউদ্দীন সাহেবের কাছ থেকে এই কথা শুনে আমি এবং ময়েজউদ্দীন সাহেব সােজা বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম। বঙ্গবন্ধু বললেন, কী খবর?’ আমি বললাম, ‘তাজউদ্দীন সাহেবকে তাে আপনি আজকে পদত্যাগ করতে বলেছেন।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, হ্যা, ওকে সরিয়ে দিয়েছি, কী হয়েছে তাতে! চট্টগ্রামের নূরুল ইসলাম (সেই সময় মন্ত্রী) আমাকে বলেছে, তাজউদ্দীন নাকি একটা দূতাবাসে গিয়ে নানা ধরনের উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলেছে। আমি সাথে সাথে বললাম, ‘বঙ্গবন্ধু, আপনি কি এটা যাচাই করেছেন? উনি বললেন, না, তা তাে করিনি। তারপর উনি আমার গলা জড়িয়ে ধরলেন, কাঁদলেন কিছুক্ষণ। বললেন, ‘তাজউদ্দীনের সাথে আমার সম্পর্ক কী তােমরা তাে জান। নূরুল ইসলামের কাছ থেকে ওই কথা শােনার পর আমার একটা প্রতিক্রিয়া হল। যাই হােক, এটা তাে অল্প, কয়দিনের ব্যাপার, আমি অন্যভাবে চিন্তা করছি। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাজউদ্দীনের সাথে দেখা হয়েছে তােমার?’ বললাম, ‘পদত্যাগের পর আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম।
তাজউদ্দীন সাহেব বললেন, এটা তাে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, তিনি যে কোন সময় তার মন্ত্রিসভা বদলাতে পারেন, এখানে জিজ্ঞাসা করার তাে কিছু নাই।’ এটা শুনে বঙ্গবন্ধু মনে খুব কষ্ট পেলেন বলে মনে হল।
.
এরপর আমি তাজউদ্দীন সাহেবের কাছেও যেতাম, বঙ্গবন্ধুর কাছেও যেতাম। আমি দুই জায়গায় আসা-যাওয়া করতাম। একদিন বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম, তখন তাজউদ্দীন সাহেব তার নিজের বাড়িতে চলে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘তাজউদ্দীনের কাছে গিয়েছ?’ বললাম, না, গতকাল যাইনি।’ তখন তিনি আমাকে বললেন, আমি তাজউদ্দীনকে এখানে আসবার জন্য গাড়ি পাঠাতে চাচ্ছি। সে যেন আসে। তুই গিয়ে বলবি এই কথা। আমি তাজউদ্দীন সাহেবের বাসায় ঢুকতেই তাজউদ্দীন সাহেব বললেন, কী ব্যাপার, বঙ্গবন্ধুর ওখান থেকে আসলেন নাকি?’ আমি বললাম, আপনাকে কি টেলিফোন করেছিল ? বললেন, না, আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে। আমি হেসে বলেছি, হ্যা, আমি বঙ্গবন্ধুর ওখান থেকে এসেছি।’ তাজউদ্দীন সাহেব বললেন, আমার সাথে কমপ্রােমাইজ করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমার তাে মুজিব ভাইয়ের সাথে কোন ঝগড়া নাই, তবে কমপ্রােমাইজটা কিসের ? আপনারা এইসব কী করছেন? তাঁর সাথে আমার যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক আছে। লােকজন গিয়ে মিথ্যা কথা বলে এইসব অবস্থা সৃষ্টি করেছে। আমি বললাম, আমি কিছু বুঝি না, আমাকে বঙ্গবন্ধু বলেছেন যে, কালকে গাড়ি পাঠাবেন। তাে আপনি যাবেন।’ তিনি বললেন, ‘গাড়ি পাঠালে যাব কেন, নিশ্চয়ই যাব।’ একদিন বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন যে, তাজউদ্দীনকে আমি আমার প্রধান উপদেষ্টা বানাব এবং ওর মর্যাদা কোন অংশেই প্রধানমন্ত্রীর চাইতে কম হবে না।’
.
আমি আওয়ামী লীগে যােগ দেয়ার পর থেকে সবসময় দেখেছি বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন সাহেবকে যথেষ্ট ভালবাসতেন এবং তাজউদ্দীন সাহেবও পাল্টা তার ভাবমূর্তি কত গুণ বড় করা যায় এটা সবসময় চিন্তার মধ্যে রাখতেন। কোন জিনিসটা করলে বঙ্গবন্ধুর ভাল হবে কোনটা করলে ভাল হবে না এই চিন্তাটা তার মধ্যে সবসময় থাকত। বঙ্গবন্ধুর দিক থেকে কোন কিছু ভুল হলে তাজউদ্দীন সাহেব কিন্তু চুপ করে থাকতেন না, বলতেন এটা ভুল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে তিনি নির্ভুল, নির্মল রাখতে চাইতেন। বঙ্গবন্ধুকে ফোকাস করে যত উপরে দেয়া যায় এই চেষ্টাই ছিল তাজউদ্দীন সাহেবের সবসময়। কাজেই তাজউদ্দীন সাহেবের সাথে বঙ্গবন্ধুর যে একটা দূরত্ব হবে বা হতে পারে এটা আমি কোন সময়ই চোখের সামনে ভাসাতে পারি না। আমার দুজনের কাছেই আসা-যাওয়া ছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই একটু একটু করে এই দূরত্বটাকে অনুভব করতে পারতাম। যতদূর মনে হয়, এই দুজনের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কেউ তৈরি করেছে। এমন সূক্ষ্মভাবে তৈরি করেছে যে, যেন সন্দেহ না হয়। আর তাজউদ্দীন সাহেব ততা মন্ত্রিসভা থেকে চলে যাবার পর কিছু বলতেনই না। শুধু বলতেন, ‘না, ঠিক আছে, আমি তাে এমপি আছিই।’
.
‘৭৫-এর জানুয়ারি মাসে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। এই পদ্ধতির বিষয়ে দলে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু একটা কথা বললে দলের আমরা সবাই সেই কথাটি ঠিক আছে বলে মেনে নিতাম। আমাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে বড়ভাবে সামনে রেখে কাজ করবার প্রবণতা ছিল। সেই জন্য আমরা সংসদীয় পদ্ধতি করি বা যাই করি, বঙ্গবন্ধু সর্বশেষ যা বলতেন আমরা তা মেনে নিতাম। এটাই ছিল আমাদের সবার কাছে গণতন্ত্র। তেমন তাে কেউ ছিল না যে তাকে সামনাসামনি কিছু বলতে পারে। দলের মধ্যে থেকে দু-চারজন সরাসরিবলে ঘুরিয়েটুরিয়ে একটু-আধটু যা বলত। যদি এই সময়টাতে তাজউদ্দীন সাহেব বঙ্গবন্ধুর কাছে থাকতেন তাহলে হয়ত বলতেন। কারণ তাকে বঙ্গবন্ধু অ্যালাউ করতেন এই ধরনের কথা বলতে। তবে অন্যরা এই বিষয়ে কিছু বলেছে কিনা আমি জানি না।
.
তারপর তাে বাকশাল হল। তাজউদ্দীন সাহেবের ধারণা ছিল, পরিকল্পিত অর্থনীতি বাকশালের মধ্য দিয়ে সম্ভব, কিন্তু প্রিম্যাচিউর জিনিস দিয়ে কিছু করা যাবে না। মানুষ তাে শিক্ষিত বা তৈরিই হয়নি ওই কাজের জন্য। সেই প্রস্তুতি বা শিক্ষাটাই যদি ভিত্তিতে না থাকে, তাহলে হঠাৎ করে কিছু করা যাবে না, চাপিয়ে দিয়ে কোন জিনিস হবে, হতে পারে না। যেমন, মােহাম্মদ তুঘলক তামার নােট প্রচলন করেছিল। দ্যাট ওয়াজ টু আরলি, তামার নােট ওই সময়ে চলেনি। এটাও একই অবস্থা বলে আমি পরিষ্কার মনে করি। তিনি বলতেন, যারা এটা করবে তারা যদি কঠোর রাজনৈতিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী না হয় তবে এই পদ্ধতির ভুল ব্যবহার করবে। এর ফলে আপনি যা যা করবেন ব্যুরােক্রেটরা দেখিয়ে দেবে কোনটাই কৃতকার্য হয়নি। আর বর্তমান বাংলাদেশে আমরা যে অবস্থায় আছি এটা কিছুতেই সেই কাজের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। আমাদের দেশে তাে চতুর লােকের অভাব নেই, কাজেই যারা সমস্ত জীবন ত্যাগস্বীকার করেছে তাদেরকে পেছনে ঠেলে ওইসব লােক সামনে আসছে। এরা শুধু বাহবাই দেয় এবং এরাই সবচাইতে বেশি স্যাবােটাজ করে। এর মধ্যে টিকে থাকা যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। আমরা কর্মীদেরকে আন্দোলন করা শিখিয়েছি, দেশ গড়ার কাজ কীভাবে করতে হবে তা। শেখাইনি। তার মধ্যে সামনে চলে আসছে নতুন পদ্ধতি, কাজেই মনে একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাজউদ্দীন সাহেবের সঙ্গে যে আলাপ-আলােচনা আমার হয়েছে তাতে কিন্তু তিনি কোনদিনই পাল্টা কোন দল করা সঠিক বলেই মনে করতেন না। তিনি সিস্টেমে বিশ্বাস করতেন। আওয়ামী লীগের জন্য তিনি একদম গােড়া থেকে কাজ করে এসেছেন। এর প্রতি তাঁর যে দরদ ছিল, সেটা তিনি কোন সময়ই নষ্ট করতে চাননি। আর বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে তাজউদ্দীন সাহেব আমাকে যা বলেছেন সেটা হল যে, বঙ্গবন্ধু একটা বিপদসঙ্কুল অর্থনীতির উপর এসে বসেছেন। আমি নেই বলে কি হয়েছে, তাকে একটা কাজ করার সুযােগ তাে দেবেন আপনারা! আগেই যদি এত কথা বলা শুরু করেন তাহলে একটা মানুষ কাজ করবে কীভাবে ? আমি আছি, আমি নেই। আবার এক সময় আসতে পারি বা নাও আসতে পারি। জিনিসটা তাে ব্যক্তিবিশেষের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। বঙ্গবন্ধুকে অন্তত হাত খুলে কাজ করার সুযােগটা তাে আপনারা দিন—এই কথাগুলাে তাজউদ্দীন সাহেব সবসময় সবার কাছেই বেশ জোরে জোরেই বলেছেন। তা সত্ত্বেও তাজউদ্দীন সাহেব নতুন দল করবেন এরকম রটনা কেউ কেউ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুও সে রটনা হয়ত বিশ্বাস করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে আমি নিজেও বলেছি যে, আপনার কাছে যে যাই বলুক, তিনি নতুন দল করবেনা। তিনি কিন্তু কখনই আপনার বিরুদ্ধে কোন দল করা বা এমন চিন্তা কোন দিনও করেননি এবং কোন সময়ই করবেন না।’ আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কেন বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল সম্পর্কে কিছু বলেন না?’ তখন তিনি বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেহেতু এটা করে ফেলেছেন, তাই এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে গেলে আমাকে ভুল বুঝবেন। আর যারা বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়েছে তাজউদ্দীন আপনার বিরুদ্ধে, তারা তখন আমার কথাকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে বলবে যে, এই দেখেন আপনাকে না করছে। তাই এই সময়ে চুপ থাকাটাই ভাল। মুজিব ভাই যদি আমার প্রয়ােজন অনুভব করেন, যদি আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন, তখন আমি আমার ধারণার কথা বলব। আমি যা বিশ্বাস করি তাই সবসময় বলি । চাটুকারিতা অথবা মিথ্যা আমি বলি না, এটা মুজিব ভাই নিজে খুব ভাল করে জানেন। এখন তাে সবকিছু একটা তুঙ্গে আছে। বাকশাল নিয়ে একটা হৈচৈ। তাই বাকশাল নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাবে না। তবে বাকশাল করার জন্য যে অবস্থার দরকার সে অবস্থা এখন আমি সামনে দেখছি না। এবং এর ওপর অনশ্লট হয়ত কোন না কোন সময় আসতে পারে। কারণ বর্তমান অবস্থায় এই পদ্ধতিটা অনেকেই পছন্দ করবে না।’
.
আমার বন্ধু সাভারের আনােয়ার জং তাজউদ্দীন সাহেবের সাথে ১৫ অগাস্টের পর জেলে এক রুমে ছিল। আনােয়ার জং আমাকে বলেছিল, তাজউদ্দীন সাহেব জেলখানায় দুঃখ করে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে এইসব লােক হত্যা করল, কিন্তু তিনি কোনদিনই জানতে পারলেন না যে তাজউদ্দীন এর মধ্যে নেই। তাঁর প্ল্যাটফর্মের ওপরে দাঁড়িয়ে আমাকেও হয়ত একসময় জীবনটাও দিতে হবে। কিন্তু তিনি সেই জিনিসটা জেনে যেতে পারলেন না। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, বিশ্বাসঘাতকতা করল খন্দকার মােশতাক!’ জেল হত্যাকাণ্ডের পর আমি অনেককে বলেছি, এত ভাল কাজ করবার পর ফলাফল কেন এমন হয়, এত কষ্ট এত ত্যাগ স্বীকারের পর তাজউদ্দীন সাহেবের কেন এই পরিণতি? এই মানুষটিকে আমি অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছি। তার মত সৎ, বিশ্বস্ত, উঁচুমনের মানুষ এই জগতে বিরল।
.
[৬.১০.১৯৯০]
আরহাম সিদ্দিকী – রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী
সূত্র – তাজউদ্দীন আহমদ আলোকের অনন্তধারা

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন