৯/১১ টুইনটাওয়ারে হামলা,মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মুসলিম বিশ্বের লাভ ক্ষতি

0
1

মোঃ নাসির নিউ জার্সি আমেরিকার থেকেঃ ৯/১১ -এ টুইনটাওয়ারে রহস্যজনক হামলার পর তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। গঠিত হলো বহুজাতিক বাহিনী যেখানে বেশিরভাগই খৃস্টানপ্রধান দেশ। যেন দুটি মুসলিমপ্রধান দেশ দখলে ক্রুসেডীয় বাহিনীর সমরসজ্জা!

ইউরোপ,আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মিলিত খ্রীস্টান শক্তি অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত হয়ে কাপুরুষের মতো হামলা করলো দূর্বল, দরিদ্র মুসলিম দেশ আফগানিস্তান(২০০১) ও ইরাকে(২০০৩)। হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো ইরান ও কোরিয়ায়।

জর্জ বুশের এহেন যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখে বিশ্বের সাধারন, শান্তিপ্রিয় মানুষ হয়েছিলো আতংকিত। ইরাক, আফগানে ইনডিসক্রিমিনেট বোমাবর্ষন আর দখলদারিত্বে মারা যায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ। আবু গারিব, গুয়ান্তানামোর অসভ্য বিভৎসতা দেখে বিশ্বের বিবেকবান মানুষ হয়েছিলো শিহরিত!
সেই সময় থেকেই জর্জ বুশ, টনি ব্লেয়ার, কলিন পাওয়েল, কন্ডোলিসা রাইস এই নামগুলো সারাবিশ্বের মানুষের চোখে সবচে ঘৃনিত হয়ে গেলো। সম্ভবত হিটলারের পর এতোটা নিন্দিত বিশ্বনেতা পৃথিবী আর দেখেনি!

এমন বাস্তবতায় আমেরিকায় এক কৃষ্ণাঙ্গ নেতার আবির্ভাব হলো…
বাবা আফ্রিকান অভিবাসী মুসলিম, মা আম্রিকান হোয়াইট। শৈশব কেটেছে এশিয়ার মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায়। নির্বাচনী সমাবেশে তিনি হাজির হতেন স্ত্রী মিশেল আর দুই কন্যা মালিয়া, সাসাকে সাথে নিয়ে। চমৎকার বাচনভঙ্গি, অসাধারন বাগ্মিতা আর মিস্টি হাসির ভদ্রলোক সহজেই মানুষের মন জয় করে নিলো।

তিন বললেন- যুদ্ধ বন্ধ হবে। নির্বাচিত হলে ইরাক, আফগান থেকে সেনা ফিরিয়ে আনবেন। গুয়ান্তানামো বন্ধ করে দিবেন।

যুদ্ধ বিগ্রহ আর বারুদের গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ আশার আলো দেখতে পেলো। সহজ, সরল মুসলমানরা ভাবলো মুসলিম বাবার সন্তান ‘বারাক হোসাইন’ আর যাই হোক অন্তত তার বাবার জাতির প্রতি বুশের মতো নির্দয়, নিষ্ঠুর হতে পারবে না!

দেখতে দেখতে সেই স্লিম, লম্বা, কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্রলোক বারাক হোসাইন ওবামা বিপুল জনপ্রিয়তায় মার্কিন প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষ অধীর আগ্রহে আল্লাহ নাম জপতে জপতে অপেক্ষা করছিলো ফলাফলের। যুদ্ধবাজ মুসলিম বিদ্বেষী জর্জ বুশের দলের পরাজয় দেখে তাদের মুখেও চওড়া, স্বস্তির হাসি ফুটে উঠলো…

সেই শান্তিরদূত(!) ভদ্রবেশি বারাক দুই মেয়াদে ৮ বছর ক্ষমতায় ছিলো। কিন্তু, ইরাক ও আফগানে মার্কিন সৈন্যঘাটি রয়ে গেলো, গোয়ান্তানামো বন্ধ হলোনা। তার পূর্বসূরি বুশ হামলা করেছিলো মাত্র দুটি দেশ ইরাক ও আফগানে।

অথচ, বারাক হামলা করলো লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়ামন, লেবানন, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, মিশর, পাকিস্তান, তুরষ্ক, মিন্দানাওয়ে। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বোমা হামলা করে পাকিস্হানের উপজাতি ও ইয়ামনের দরিদ্র মুসলমানদের জীবন দূর্বিষহ করে তুললো। পিকেকের বোমা হামলা ও রাজনৈতিক অস্হিরতা ছড়িয়ে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইলো তুরষ্কে। সেখানে ব্যর্থ হলেও সফল হলো মিশরে।

রহস্যময় ও কুখ্যাত শক্তি আইএস এর উত্থান ছিলো টিম ওবামার আরেকটি সিক্রেট মিশন। মার্কিন অস্ত্র সহায়তায় গড়ে উঠা আইএসের মাধ্যমে নীরিহ মুসলিমদের হত্যা করা হলো। বাংলাদেশেও তার আচড় এসে লাগলো হোলি আর্টিজান হামলার মাধ্যমে!
এরপর আইএস কে দেখিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিলো ইসলামোফোবিয়া আর মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা। অতঃপর, আইএস দমনের নামে সিরিয়া আর ইরাকে করা হলো নির্বিচার বিমান হামলা, পাঠানো হলো সেনা।

আজ সিরিয়া নামের দেশটি রীতিমতো ধ্বংসস্তুপ! কয়েক কোটি সিরিয়ান পরিনত হয়েছে শরনার্থীতে। যারা ছিলো সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত, অভিজাত তারা এখন ইউরোপের রাস্তাঘাটে ভিক্ষা করে বেড়ায়।

ওবামার আট বছরে ইজরেল গাজায় বড় আকারের সামরিক হামলা করেছে ৩ বার- ২০০৯, ২০১১,২০১৪। প্রতিবারই তাদের অর্থ ও বিমানভর্তি অস্ত্র দিয়ে সাহায্য ও কূটনৈতিক সমর্থন করেছে আমেরিকা।

এমনকি ফিলিপিনের মিন্দানাও দ্বীপে মুসলিমদের স্বাধীনতা আন্দোলন দমানোর জন্য আমেরিকা সৈন্য প্রেরন করে,, যেটি আমরা অনেকেই জানিনা…

এভাবেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হট্টগোল তৈরী করলো নোবেল পিস(!) লরিয়েট বারাক ওবামা।

ততোদিনে অবশ্য গরিবের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেছে…
তারা মনে মনে বললো- ‘ব্যাটা সাধুবেশে চোর অতিশয়’!
অনেকে আফসোস করে বললো- হায়, এরচে তো জর্জ বুশই ভালো ছিলো!

কাজেই আমেরিকার গদিতে কে আসলো-গেলো তাতে আমাদের খুব বেশি ফায়দা নেই। এরা একটা যদি হয় #নরক আরেকটা #দোজখ। একজন ডিরেক্ট জবাই করবে আরেকজন হয়তো জবাইয়ের আগে একটু পানি পান করতে দিবে। এতটুকুই শুধু পার্থক্য….

মোটকথা, নিজেরা শক্তিশালী না হলে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে তৃতীয়বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর এসব সাম্রাজ্যবাদী অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি নেই।।

আপনার মতামত প্রকাশ করেন

আপনার মন্তব্য দিন
আপনার নাম এন্ট্রি করুন