জি নিউজ ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নতুন সিদ্ধান্তে নাখোশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ঐক্য গঠিত হওয়ার আগে থেকেই বিএনপিকে শর্ত দেওয়া হয়েছিলো জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। তখন এ নিয়ে তেমন কিছু না বললেও সময়ের সাথে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। শেষ পর্যস্ত ঐক্যফ্রন্টের মতো জামায়াতও একই প্রতীক ধানের শীষে ভোট করতে যাচ্ছে। নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর এবার দলীয় প্রতীকে ভোট করার সুযোগ নেই। তবে জোটের কোনো একটি শরিক দলের প্রতীকে ভোট করার সুযোগ সব সময় ছিল। এতদিন অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে রাজি না থাকলেও চলতি সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হয়, তারা ব্যবহার করবে ধানের শীষই। জামায়াত এবং বিএনপির নেতারা মনে করেন, যদি ধানের শীষের বদলে একেকটি এলাকায় জামায়াত নেতারা একেকটি প্রতীকে ভোট করেন, তাহলে দলের একনিষ্ঠ বহু সমর্থকের ভোট মার্কার কারণে পাওয়া যাবে না। এ কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত একটি মার্কা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এরই মধ্যে ধানের শীষ ব্যবহারের প্রত্যয়ন নিয়ে ২৫টি আসনে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। আরও প্রায় তিন ডজন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ঐক্যফ্রন্টের ওই শরিক দলের নেতা বলছেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা ধানের শীষে ভোট চাইব। এখন জামায়াতও যেহেতু এই প্রতীকে ভোট করবে, তাই আমাদের এই আবেদন তাদের পক্ষেও যাবে। আর এটিকে নিশ্চয় আওয়ামী লীগ ব্যবহার করবে আমাদের বিরুদ্ধে।’ ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামও শুরুতে তাদের প্রতীক উদীয়মান সূর্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল। পরে তারাও ধানের শীষ ব্যবহারের কথা জানায়। আর নির্বাচন কমিশনে সে চিঠিও দেয়া হয়। ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির শরিক দলগুলো হলো কামাল হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আবদুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা দল ও আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না দাবি করেন, তিনি জামায়াতের ধানের শীষে ভোট করার সিদ্ধান্ত জানেন না। বলেন, ‘আমি এখন এলাকায় আছি, এ বিষয়টি আমি জানি না তো। আপনার কাছে শুনলাম, আরও ভালো করে শুনি, তারপর কমেন্টস করব।’দলের বাইরে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জামায়াতের পক্ষে ভোট চাইব কেন? আমরা চাইব, ধানের শীষের পক্ষে।’ কিন্তু জামায়াত তো এই প্রতীকেই ভোট করবে। তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে আপনার এই আহ্বান তো স্বাধীনতাবিরোধী দলটির পক্ষেও যাবে- এমন প্রশ্নে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের যত শক্তি আছে, যারা পরিবর্তন চায়, তারা ধানের শীষের পক্ষে ভোট করবে। জামায়াত মত পরিবর্তন করেছে।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতার দাবি, জামায়াত কোনো দল হিসেবে ভোটে আসছে না। দলটির কিছু ব্যক্তি নির্বাচন করছেন যারা আগে জামায়াত করতেন। বলেন, ‘মত পরিবর্তন করে যে কেউ বিএনপির সঙ্গে আসতে পারবেন। তাতে কোনো অসুবিধা নেই।’তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল।