বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখে।এই ৭ তারিখে বাংলাদেশে নির্বাচন নামক একটি ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ বেশ কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির বর্তমান অবস্থা কোমরভাঙা। তাদের সিংহভাগ নেতাকর্মীরা জেলখানায় আটক রয়েছে। কেন্দ্রীয়, জেলা,উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের প্রথম স্তরের মোটামুটি সকল নেতাকর্মীই আটক রয়েছে। এমন অবস্থায় প্রায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে দলটির। বিএনপি এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলে যাচ্ছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখের পর থেকে দফায় দফায় হরতাল -অবরোধ দিয়ে যাচ্ছে দলটি।এ হরতাল -অবরোধ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের তেমন উপস্থিতি ছিলোনা। কিন্তু ব্যাপক ভাংচুর,জ্বালাও-পোড়াও, এমনকি কয়েকজন মারাও গিয়েছে এ কয়েকদিনে। ২৮ অক্টোবরের পরে প্রকাশ্যে ৪৩ দিন পর ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে বহু নেতাকর্মী নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। বর্তমানে হাঁটুভাঙা, কোমরভাঙা দলটি এখনো এ সরকারের অধীনে এবং এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বারবার সকল রাজনৈতিক দলগুলাকে সংলাপের জন্য আহবান করলেও বিএনপিসহ কয়েকটি দল এতে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দল অংশ গ্রহণ করলেও বাকি দলগুলো ইতিমধ্যে অংশগ্রহণ করছে না আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী দিলেও তাদের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আসনগুলোতে রয়েছে। রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় অনেকটা একতরফা নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিলো রাজনৈতিক দলগুলোর ও আমজনতার মতামতকে সমর্থন দেওয়া। কিন্তু এই আউয়াল কমিশন সম্পূর্ণ বর্তমান সরকারের অধীনে রয়েছে। বেশ কিছুদিন পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কয়েক দফা সংলাপের ও আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু দেখা গেছে, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে অপ্রস্তুত। সংলাপের অর্থই হলো সকল রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যগুলো যাচাই বাছাই করে সবচেয়ে বেশি মতামত যে পক্ষে তা মানা। কিন্তু কি হলো এ নাটকীয়তার সংলাপের। সংলাপ মূলত হয়েছে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশ গ্রহণ করানো এবং তাদেরকে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য। যেখানে অধিকাংশ দলগুলোর বক্তব্য হলো,তারা এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না সেখানে নির্বাচন কমিশন তাদের কতগুলো শর্ত একরকম চাপিয়ে দিয়েছে দলগুলোকে। সর্বশেষ তফসিল ঘোষণা হলো,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি ও নিচ্ছে। ইতিমধ্যে, মনোনয়ন যাচাই বাছাই হয়েছে। যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যাচ্ছে তাদের ও অনেক সমস্যা ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে ১৪ দলের শরিকরাও নানারকম টানাপোড়েনে রয়েছে। আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের দল থেকে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে তাদেরকে প্রত্যাহার করা যাবে না। ১৪ দলের অনেক নেতাই আছে যারা কিনা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে ও পাশ করে আসতে পারবে না।এমন অবস্থায় ১৪ দলের শরিকরাও শঙ্কায় রয়েছে। এরইমধ্যে, আবার ১৪ দলের মধ্যে গণতন্ত্রী পার্টির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় সকলের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।তাহলে,একরকম বলা যায় এ দলটি ও আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।বর্তমান যে দলগুলো আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দল হলো জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি পূর্বে তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থেকে নির্বাচন করেছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তারা এককভাবে নির্বাচন করবে বলে ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচন থেকে সরে আসে কিনা বলা যাচ্ছে না।কারণ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজে ও বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এর বেশ কিছু কারণ যদি উল্লেখ করা যায়। এ নির্বাচনে অন্যতম চমকটি জাতীয় পার্টি দেখালো,সেটা হলো রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা আউট হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে জিএম কাদের জাতীয় পার্টির প্রধান নেতা। জাতীয় পার্টি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না যায় তাহলে আগামী নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা বলাই মুশকিল। জাতীয় পার্টি ছাড়া এই মুহূর্তে বড় কোনো রাজনৈতিক দলও নাই যে তারা বিরোধী দল হওয়ার মত যোগ্যতা রাখে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ছাড়া বাকি যে দলগুলো রয়েছে তাদের সারাদেশে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব নেই। আগামী নির্বাচন কোনো রকম অর্থবহ করতে হলে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। ৭ জানুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখের ফাইনাল ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি না হওয়ার শঙ্কাই বেশি। যেখানে বিএনপির মত বড় দল নির্বাচনে নেই, আবার গত ২০১৪ এবং ২০১৮ তে যে নাটকীয় ভোট হয়েছে সেখানে জনগণ নিরুপায় ছিলো, এই ভেবে জনগণ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না ও করতে পারে। আওয়ামীলীগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কিংস পার্টি দিয়ে নির্বাচনে দর্শকের উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
বাদশাহ আবদুল্লাহ
লেখক ও কলামিস্ট
Email :badshahabdulla1300@gmail.com