এমএইছ চৌধুরী, জুনাইদ। শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ছিনতাই এর পর চালককে হত্যা করে সাতছড়ি উদ্যানের গহীন জঙ্গলে লুকিয়ে রাখার ৫ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর তার লাশ গুম করার দায়ে দুই দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সাতছড়ি উদ্যানের গহীন জঙ্গল ট্রাক চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক সাগর সরকার শহরের নোয়াহাটি এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ সরকারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ১৩ মে পিকআপ চালকের পরিচিত আলাউদ্দিনসহ একটি চক্র ভাড়ার নামে গাড়িসহ সাগরকে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে যায়। সেখান থেকে মাধবপুর যাওয়ার কথা বলে রওয়ানা হয়ে চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাশে গহীন জঙ্গলে নিয়ে চালক সাগরকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখে। পরে গাড়িটি বিক্রি করার জন্য মাধবপুর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী মনতলা এলাকায় নিয়ে যায়।
এ দিকে নিখোঁজ সাগরের বাবা প্রদীপ সরকার সাগর নিখোঁজের বিষয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী ঘটনার তদন্তে নামেন। প্রথমে সন্দেহ হয় গাড়িটি হয়তো চালক সাগরই নিয়ে পালিয়েছে। পরবর্তীতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরেক পিকআপ চালক শহরের যশেরআব্দা এলাকার বাসিন্দা তাজুমিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে শায়েস্তাগঞ্জের আব্দুল কাদিরের ছেলে আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে সোমবার বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীনবন থেকে চালক সাগরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছিনতাইকৃত পিকআপটিও মনতলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, আটককৃতরা দুর্ধর্ষ অপরাধী। ঘটনার সাথে মোট ৪ জন সম্পৃক্ত ছিল। তাদের একে অপরের সাথে কারাগারে পরিচয় হয়। সেখান থেকে বের হয়ে তারা একটি সঙ্গবদ্ধ দল তৈরির মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অপর দুই সহযোগিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি বাকী দুই অপরাধীও নাগালের মধ্যেই আছে। খুব তাড়াতাড়ি তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।