শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রকৌশলী ছাত্র তাসিমুল আলম শ্রাবণ(২২)’র মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার দুপুর একটার দিকে উপজেলা রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামের জনৈক আব্দুল মান্নানের পুকুরে। নিহত শ্রাবণ কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মশুয়া গ্রামের মোঃ নাজমুল আলমের ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে সাটিয়াবাড়ী গ্রামে নিজের বাড়িতে থাকতেন। তারা বাবা নাজজুমল আলম রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সিভি়ল চার্জ ম্যান হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয়রা জানান, শ্রাবণ একাই ওই পুকুরে সাঁতার কাটছিল। একাধিকবার পুকুরের এপার ওপার করেছে। দুটি ছোট্ট শিশু তখন দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করেই শ্রাবণ বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে মাঝ পুকুরে তুলিয়া যেতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাশের মসজিদে এ ঘটনা জানায়। মসজিদের মুসল্লিরা দৌড়ে গিয়ে শ্রাবনকে উদ্ধার করে ঢাকাস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)’এ পাঠায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিয়তের বাবা নাজমুল আলম জানান , আমার বাবা শ্রাবণ মিরপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছিল। ডুয়েটে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক’দিন বাদেই তার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রাবণ নিয়মিত সাটিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুকুরে বন্ধুদের নিয়ে সাঁতার কাটতো।

বুধবার দুপুরে সে সাতার কাটতে যাওয়ার আগে মাকে বলে সিনার মাংস রান্না করতে। গোসল ছেড়ে এসে সিনার মাংস খাবে । তার সিনার মাংস খাওয়া হলো না। আমার বাবা নেই এখন সিনার মাংস কে খাবে।

এদিকে শ্রাবনের অকাল মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শত শত নারী পুরুষ এসে সমবেদনা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা বলেন শ্রাবণ অত্যন্ত মেধাবী এবং ন্যায়পরায়ণ ভালো ছেলে ছিল। এভাবে তার অকাল মৃত্যু সকলকে ব্যতীত করেছে।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃশাহিনুর আলম জানান, সকল আইনে প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়তের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।