গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দিনমজুর আজিজুল ইসলামকে (৩৮) লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার বরমী বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বরমী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তা ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ১০ বছরের ফুটফুটে শিশুকন্যা আজিদা আর ৮ বছরের অবুঝ ছেলে ইয়াছিনকে নিয়ে ছিল দিনমজুর আজিজুলের সংসার। গর্ভধারিণী মা আগেই সন্তানদের ফেলে চলে যান। এরপর থেকে বাবা আজিজুলই ছিলেন এই দুই অবুঝ শিশুর একমাত্র আশ্রয় ও ছায়া। নিজে দিনমজুরি করে সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতেন। কিন্তু ঘাতকদের নির্মমতায় আজ চিরতরে নিভে গেলো এই দুই অবুঝ শিশুর মাথার ওপর থাকা বাবার ছায়াটুকু। অবুঝ এই দুটি শিশু আজ সম্পূর্ণ এতিম ও নিঃস্ব। বক্তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জামিন না দিয়ে ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য,ধগত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটাল বাড়ি এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি সামান্য বিষয়ে নিহত আজিজুল ও তার ছোট ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি সহযোগীরা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজিজুলের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা আজিজুলের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘাতকদের নির্মমতা এখানেই থামেনি; তারা আজিজুলের বসতবাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বৃদ্ধা মা, ছোট বোন ও ভাইকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালায় হামলাকারীরা।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আজিজুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাত তিনটার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অসহায় এই বাবা।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো অবস্থাতেই যেন অপরাধীরা পার না পায়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।