​শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরের সাতখামাইর রেলস্টেশন এলাকায় সচেতন যুব সমাজের উদ্যোগে রোপণ করা চারাগাছ ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় যুব সমাজ এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য বাচ্চু মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে দায়ী করেন।

​তবে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাচ্চু মিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ক্ষোভ বা বিরোধের জেরে নয়, বরং উল্টো নিজেই ওই এলাকায় নতুন করে গাছ লাগিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

​জানা যায়, গত দুইদিন আগে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা রেলস্টেশনের পূ্বপাশে যুব সমাজের রোপণ করা বেশ কিছু চারাগাছ ভেঙে দিয়ে ও উপড়ে ফেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুব সমাজ অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চু মিয়া রাতের আঁধারে এসব গাছ ধ্বংস করেছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া জানান, সাতখামাইর রেলস্টেশনের পাশেই আমার লিজ নেয়া
কৃষি জমি রয়েছে। গাছ ভাঙার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ‘স্টেশনের পাশে আমার জমি রয়েছে আমি কেন গাছ ভাঙতে যাব। যারা গাছ ভেঙেছে, তারা অন্যায় করেছে। কিন্তু অকারণে আমার নামে দোষারোপ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক।’

​বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সচেতন যুব সমাজ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি নিজেও বৃক্ষপ্রেমী। এর আগেও আমি সাতখামাইর রেলস্টেশন এলাকায় অনেক গাছ রোপণ করেছি। আজও আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে নিম, কাঁঠাল এবং জলপাই গাছ রোপণ করে দিয়েছি।’

​গাছের উপকারিতা তুলে ধরে বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয় এবং ছায়া দেয়। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। যারা এসব গাছ ভেঙেছে, তারা মানুষের শত্রু। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাব, রোপণ করা গাছগুলোর যেন আর কোনো ক্ষতি করা না হয়।’

​এদিকে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন সহনশীল আচরণ এবং নিজের উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিবাদের চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত অংশগ্রহণই এখন সময়ের দাবি।