​শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি জবরদখলমুক্ত করতে গিয়ে উচ্ছেদকারী দলের ওপর হামলা চালিয়েছে দখলকারীরা। হামলায় বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি গাড়ির চালকের। একই সঙ্গে বন বিভাগের একটি জিপ গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়িচালা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে আসেন ঢাকা বিভাগীয় সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ)।

​স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর রেঞ্জের সাতখামাইর বিটের অধীনে ডোমবাড়িচালা গ্রামে সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া ৬টি কক্ষবিশিষ্ট পাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। অভিযুক্ত দুলাল মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শ্রীপুরের আবদার গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

​আজ দুপুরে বনের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের ২০ জনের একটি দল উচ্ছেদ অভিযানে যায়।

​অভিযান চলাকালে দখলকারীরা উচ্ছেদকারী দলকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে দখলকারীরা আশপাশের লোকজনকে জড়ো করতে “বনকর্মীরা নারীর শরীরে হাত দিয়েছে” বলে চিৎকার শুরু করে। এই মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও দখলকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

​হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি হাতুড়িপেটা করে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমানের হাত ভেঙে দেয় এবং সরকারি জিপ গাড়িটি ভাঙচুর করে। জীবন বাঁচাতে বনকর্মীরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে আশ্রয় নেন।

​হামলায় আহতরা হলেন,​শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান (৩৮),সদর বিট কর্মকর্তা আখতার হোসেন (২৯),বিপ্লব হোসেন (৪৫), দেওয়ান মোহাম্মদ সাকিল (৩৪), কামাল মিয়া (৪০), লাভলু মিয়া (৪৫), ফিরোজ (৩৪), আলমগীর (৩২), আব্দুল হাকিম (২৮), আব্দুল মতিন (৪৩), সাজু (২২), শহিদুল (৪০), লাল মিয়া (৩০), ছামাদ (৪০) ও জসিম উদ্দিন (৪০)।

​শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ আরজিনা জানান, হাসপাতালে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

​এ ঘটনার পর অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​ঢাকা বিভাগীয় সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ​”হামলার খবর পেয়েই দ্রুত হাসপাতালে এসে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এই বিষয়ে দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

​শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, বন বিভাগের সদস্যরা পুলিশ ছাড়াই এই অভিযানে গিয়েছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।