কাপাসিয়ায় জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবীতে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল
কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে শামসুল হুদা লিটন:
দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ জুলাই শনিবার বিকালে ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবীতে উপজেলা সদরে এ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা শেফাউল হকের নেতৃত্বে ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম পাশে তাজউদ্দীন আহমদ চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি ডাকবাংলো মোড়, প্রেসক্লাব মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়, কলেজ রোড, থানার মোড় হয়ে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
কাপাসিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সনমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা তোফাজ্জল হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা শেফাউল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল ও কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিশিষ্ট মোফাচ্ছেরে কুরআন মাওলানা সামসুল আলম, কাপাসিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাছউদুর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী সেক্রেটারি ইমতিয়াজ বকুল সহ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে জামাত নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারী সরকার জুলাই – আগস্টে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ও নারকীয় গণহত্যা চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে । এই বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা মন্থর করা যাবেনা।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়েছে। তখন সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে হ্যা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবিলম্বে গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে।
জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য হলো— ফ্যাসিবাদের বিলোপ, ন্যায়বিচার, সুশাসন, এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবী বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণহত্যা বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোন তালবাহানা জাতি বরদাস্ত করবেনা।