নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগে আল আরাফ হাসপাতালে তদন্ত কমিটি

অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিযোগও খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য বিভাগ

উপজেলা সংবাদদাতা

গাজীপুরের শ্রীপুরে আল আরাফ হাসপাতালে নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের এ কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে সোমবার (১৪ জুলাই) এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই শ্রীপুর উপজেলার রেলগেট এলাকায় অবস্থিত আল আরাফ হাসপাতালে নবজাতকের হাত ভেঙে কয়েক টুকরো হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি ও অবস) ডা. কুহু মুৎসুদীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাবরিনা মোহনা। সদস্য সচিব করা হয়েছে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মোহাম্মদ শরীফ হোসেনকে।
কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম,সোশাল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে আমি গত ১৩/০৭/২০২৬ ইং তারিখে আল আরাফ হাসপাতালে ছুটে যাই এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের সময় নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার একটি ঘটনা ঘটে।

এসময় আমার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রীপুর, গাজীপুরের এমওডিসি ডা. আল নাফিস। এসময় তিনি নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সরেজমিনে দেখেন ও পরবর্তী চিকিৎসার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেই এবং পুরো ঘটনা সিভিল সার্জন গাজীপুর’কে অবহিত করি। বর্তমানে বিষয়টি আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আল আরাফ হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর মাধ্যমে হয়রানি করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি হাসপাতাল থেকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে । তদন্ত কমিটি চিকিৎসাসেবার মান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও অন্যান্য অভিযোগও যাচাই করে দেখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত কাজে সহযোগিতা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ-সব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।