কালীগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
মো: ইব্রাহিম খন্দকার
কালিগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি //
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবকে ঘিরে আনন্দ, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা। ০৮ই এপ্রিল (বুধবার) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একটি আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নববর্ষের মতো উৎসবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এটিকে জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সভায় নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী, বৈশাখী মেলা সহ নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা, কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. ইকবাল হোসেন পিপিএমসহ বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ,জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। এতে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রাণবন্ত ও নিরাপদ নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা গড়ে তোলা হয়। আয়োজনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষে কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে উৎসবমুখর করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মেলা ও বৈশাখী শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, মেলা প্রাঙ্গণে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা ও মেডিকেল ক্যাম্প রাখার প্রস্তাব করেন। সবশেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়, যাতে কালীগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর, নিরাপদ ও স্মরণীয়।