নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুরঃ গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় শাশুড়িকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজানোর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের পুত্রবধূসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্প্রতিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাংবাদিকদের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিং পুলিশ সুপার বলেন, গত ৮ এপ্রিল পিরুজালী গ্রামে নিজ ঘর থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নিহতের পুত্রবধূ দাবি করেন, গভীর রাতে একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে তাকে হাত-পা বেঁধে রাখে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করার সময় তার শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন পুত্রবধূর বক্তব্যে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তির বিরোধের জেরে তিনি নিজেই এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, পুত্রবধূ তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ঘরে ঢুকে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আলমারি তছনছ করা হয় এবং নিজেদের আঘাত পাওয়ার নাটক সাজানো হয়। পুলিশের প্রযুক্তির সহায়তায় এবং পুত্রবধূর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী আরও দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ”এটি কোনো সাধারণ ডাকাতি ছিল না।পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্তরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ডাকাতির গল্প সাজিয়েছিল। আমরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছি।” পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আজ গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।