শ্রীপুরে বনভূমির গেজেট জটিলতা নিরসনের দাবি
সমাধান না হলে কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ- গাজীপুরের শ্রীপুরে বনভূমির গেজেট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া বাজার গরুর হাট এলাকায় ভুক্তভোগী জনগণ, নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ ও শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে এ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, একই দাগে বনভূমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অন্তর্ভুক্ত থাকায় ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারার আওতায় গেজেট চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত জমির হস্তান্তর, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা তাদের সম্পত্তির ওপর ভোগদখল, হস্তান্তর ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।
বৈধ রেকর্ড ও কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকরা খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। অন্যদিকে বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট জমির অংশে রাজস্ব পরিশোধ অব্যাহত রাখছে, যা বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যক্তি মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি মামলা দায়েরের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় বনভূমির চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। তবে বাস্তবে এর সুফল থেকে স্থানীয় জনগণ বঞ্চিত থাকছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, জমির সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়াও নানা জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নিলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে জমির মালিকরা ঘরবাড়ি নির্মাণ, কৃষিকাজ, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।
এ পরিস্থিতির কারণে একদিকে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-২৩ মে ২০০৬ সালের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাতিল বা শিথিল করা; সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী
ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ভোগদখল, হস্তান্তর, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের অধিকার নিশ্চিত করা; এবং চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের বাইরে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে নামজারি ও রাজস্ব কার্যক্রম পুনরায় চালু করা। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মানববন্ধনসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম, মো. সেলিম মোল্লা, ড. রানা মাসুদ ও মিশ রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।