লাশ সৎকারেও প্রতিপক্ষের বাধা, ২০ ঘণ্টা পর ধানক্ষেতে বৃদ্ধার দাফন!

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (মান্দাই কুজ) সম্প্রদায়ের বৃদ্ধার মৃত্যুর ২০ ঘণ্টা পরও লাশ দাফন সম্পন্ন করতে পারেনি তার পরিবার। অবশেষে স্থানীয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দেওয়া ধানের জমিতে ওই বৃদ্ধার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা ঘরের বারান্দায় পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ।

​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত বৃদ্ধার নাম মেনোকা রানী (৭০)।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মেনোকা রানী। অত্যন্ত অসহায় এই পরিবারটি মাত্র এক শতাংশ জমিতে কোনোমতে বসবাস করে আসছিল। মৃত্যুর পর সৎকারের স্থান নিশ্চিত করতে চার বছর আগে প্রতিবেশী মৃত মফিজ উদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন মেনোকার ছেলে শ্রী শুবিন্দ। নামজারি (খারিজ) জটিলতার কারণে তখন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হলেও, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জমির পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল।

​কিন্তু মেনোকা রানী মারা যাওয়ার পর বাঁধে চরম বিপত্তি। চুক্তিকৃত ওই জমিতে স্বজনরা সৎকারের প্রস্তুতি নিতে গেলে প্রতিপক্ষ ছফর উদ্দিন কবির ও তার পরিবার লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেয়। তারা জমি বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মরদেহ সৎকারে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

শ্রীপুরে ট্রেনের নি.চে ঝাঁ.প দিয়ে প্রেমিক যুগলের আ.ত্ম.হ.ত্যা, খ.ণ্ড-বি.খ.ণ্ড ম.র.দে.হ উদ্ধার

​ঘটনার খবর পেয়ে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দফায় দফায় সালিসি বৈঠক করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের একগুয়েমি ও অমানবিক অবস্থানের কাছে স্থানীয় সামাজিক বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অসহায় হয়ে পড়ে।

​এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক আক্ষেপ করে বলেন,“আমরা বিবাদমান পক্ষকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কোনো কথা মানতে রাজি হয়নি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমার নিজের ধান রোপণ করা জমিতে ওই বৃদ্ধার সৎকারের ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছে।”

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের ছেলে শুবিন্দ চরম ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, ​”আমরা প্রান্তিক ও নিচু জাতের মানুষ বলেই কি মায়ের লাশ রাতভর বারান্দায় পড়ে থাকবে? জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের দুয়ারে ঘুরেও কোনো বিচার পেলাম না। শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে দূরে, ধান রোপণ করা কাদামাটিতেই মায়ের দাফন করতে হলো। আমরা কি এ দেশের নাগরিক না?”

​এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও বিবাদীদের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিক মীমাংসা করা যায়নি। আইনগত ব্যবস্থার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।