ফকির মজনু শাহ্ সেতুর টোল সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি এমপি সালাহউদ্দিনের

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর (বানার নদী) ওপর নির্মিত ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু’ থেকে চলমান টোল আদায় সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (১৯৭ গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া) সালাহউদ্দিন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বরাবর লিখিত চিঠির মাধ্যমে এ দাবি জানান তিনি।

সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, ৩৯০.৯১ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে তৎকালীন সরকারের ব্যয় হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষার পর ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট সেতুটি সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২০০৫ সালে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ২০ বছর অতিবাহিত হলেও কাপাসিয়াবাসী এই টোলের বোঝা থেকে মুক্তি পাননি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিগত দুই দশকে এই সেতু থেকে টোল ইজারা বাবদ সরকারের রাজস্ব তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা, যা মূল নির্মাণ খরচের ৪ গুণেরও বেশি।

চিঠিতে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে ৩ বছরের জন্য নতুন ইজারা প্রদান করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে। কাপাসিয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও ময়মনসিংহের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। অতিরিক্ত টোল দেওয়ার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, স্বল্প আয়ের চালক ও কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ ও লিখিত নির্দেশনা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। কাপাসিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে এবং জনস্বার্থে ২০২৭ সালের বিদ্যমান ইজারা চুক্তি বাতিল করে ফকির মজনু শাহ্ সেতুকে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত ঘোষণা করার জোর দাবি জানান তিনি।