শ্রীপুরে হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের ‘টর্চার সেল’ উন্মোচন: একাধিক ভুক্তভোগীর রক্তমাখা জামা উদ্ধার, আটক ৪

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্ল্যাকমেইলিং, অপহরণ ও নির্যাতন চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় ওয়াজউদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়ার বাড়িতে গড়ে ওঠা এই ‘টর্চার সেল’ থেকে ৪ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক ভুক্তভোগীর রক্তমাখা পোশাকসহ নির্যাতনের নানা সরঞ্জাম।

​স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রেমের ফাঁদে ফেলে (‘হানি ট্র্যাপ’) কিংবা পথ আটকে সাধারণ মানুষ, তরুণ-তরুণী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করাই ছিল খোকন মিয়ার মূল কাজ। আস্তানায় এনে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করত এই চক্রটি।

আটককৃতরা হলেন- জান্নাত রীতু, জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া, বাড়ির মালিক খোকনের স্ত্রী সেলিনা ও মাহবুব। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত মুক্তা কৌশলে পালিয়ে যান। ভিডিওতে স্থানীয় এক নারী হানি ট্র্যাপ চক্রের এক মেয়েকে এবং দুইজন ছেলে ওই চক্রের এক ছেলে সদস্যকে লাঠি দিয়ে মারতে দেখা গেছে।

​সম্প্রতি গত ১৫ আগস্ট মাওনা চৌরাস্তার মোবাইল ব্যবসায়ী নাসির মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় খোকন ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন। তাকে তুলে নিয়ে খোকনের বাড়িতে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরনের কাপড় খুলে আইফোন ও ওয়ানপ্লাস মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর, বিকাশের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাসির শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​নাসিরের ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা খোকনের বাড়ির ওপর নজর রাখছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চারজন তরুণ-তরুণীকে রহস্যজনকভাবে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখে এলাকাবাসী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা খোকন পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ চারজনকে ভেতরে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। মঙ্গলবার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​পরবর্তীতে পুলিশ ও এলাকাবাসী যৌথভাবে খোকনের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে।​ব্যবসায়ী নাসিরের ছিনতাই হওয়া ১টি দামি মোবাইল।​নাসিরসহ অন্তত ৪ জন ভুক্তভোগীর ছেঁড়া ও রক্তমাখা পোশাক।নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার। একাধিক মানিব্যাগ, খালি মোবাইল কভার এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়িতে মাদকের কেনাবেচা চললেও এটি যে এত বড় একটি নৃশংস টর্চার সেল, তা নাসিরের ঘটনার পর প্রকাশ্যে এল।

​শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার মূল হোতা পলাতক খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।