শ্রীপুরে মেয়ের পারিবারিক কলহ মেটাতে গিয়ে জামাতার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল শ্বশুরের

​শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মেয়ে ও জামাতার পারিবারিক কলহ মেটাতে গিয়ে জামাতার লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। “ঘটনার পর থেকে জামাতা ফিরোজ পলাতক রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার দারোগারচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত হাফিজ উদ্দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে ও তার স্বামী ফিরোজ উভয়েই স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। ঘটনার দিন রাতে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে কারখানা থেকে বাসায় ফিরলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মেয়ে তার বাবাকে ফোন করে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন।

​খবর পেয়ে হাফিজ উদ্দিন তার ছেলেকে সাথে নিয়ে মেয়ের দারোগারচালা এলাকার ভাড়া বাসায় যান এবং তাদের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে জামাতা ফিরোজ বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে ফিরোজ বাঁশের লাঠি দিয়ে শ্বশুর হাফিজ উদ্দিনের মাথায় ও শরীরে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।

​পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

​শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে জামাতার বাঁশের লাঠির আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

​শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।“ঘটনার পর জামাতা ফিরোজ পলিয়ে যায়, তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”