দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছে সরকার। বর্তমানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেল মজুত আছে, এটা আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি। তবে, মে মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হবে কিনা তা পরবর্তীকালে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হবে।”
এ সময় দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। যদিও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক বিবেচনায় এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না। প্রতিমাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনোভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।
শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে যুগ্ম-সচিব বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে।
তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি পরিশোধন করা হয়, যা মোট জ্বালানি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ।