• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
Headline
শ্রীপুরে প্রায় ৮ হাজার পিস ই.য়া.বা.সহ এক মা.দ.ক কারবারি গ্রে.প্তা.র ​শ্রীপুরে প.চা মাংস বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি জমি সংক্রান্ত বিরোধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ব্যারিস্টার খোরশেদ আলমের সংবাদ সম্মেলন শ্রীপুরে জঙ্গলে পড়ে আছে ১২ ঘোড়ার মা.থা-হা.ড়, মাংস নিয়ে উধাও দু.র্বৃ.ত্ত.রা নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ নম্বর স্ট্রিট: প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শ্রীপুরে ৬০০ শিক্ষার্থীকে আম গাছের চারা বিতরন করেন বিএনপি নেতা  কাপাসিয়ায় ফকির মজনু শাহ্ সেতুর টোল সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি এমপি সালাহউদ্দিনের যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভিবাসন ধরপাকড়, স্বেচ্ছায় ফিরলে ২,৬০০ ডলারের সুযোগ শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের তৃতীয় দফা গণনায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা

ছুটি না পেয়ে সুপারভাইজারের পা ধরেও শেষ রক্ষা হলো না লিজার কারখানায় মৃ.ত্যু ; ৪ কারখানায় ব্যাপক ভাঙ.চুর

Reporter Name / ৯৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

​শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে অসুস্থতার কারণে ছুটির জন্য সুপারভাইজারের পা ধরে আকুতি করেও ছুটি পাননি লিজা বেগম (২০) নামের এক নারী শ্রমিক। শেষ পর্যন্ত ছুটি না পেয়ে বুধবার রাতে কারখানার ভেতরেই কাজ করা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ‘কালার অ্যান্ড কোং’ নামক কারখানায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

​নিহত লিজা বেগম পিরুজপুর জেলার নাজিরপুর থানার হুগলাবুনিয়া গ্রামের আশরাফের মেয়ে। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

​এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে মাওনা-শ্রীপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা আশপাশের অন্তত চারটি কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

​কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লিজা বেগম কিছুদিন আগে ১১ দিনের অসুস্থতার ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। বুধবার রাত ৮টার দিকে তিনি পুনরায় প্রচণ্ড অসুস্থতা বোধ করলে সুপারভাইজার শাহ জালালের কাছে ছুটির আকুতি জানান। এভাবে অন্তত পাঁচবার ছুটি চাইলেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে লিজা সুপারভাইজারের পা ধরে মিনতি করলেও মন গলেনি কর্তৃপক্ষের। অবশেষে রাত পৌনে ১টার দিকে কারখানার ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লিজা।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ​”আমাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হয়। সকাল ৮টায় কাজে যোগ দিয়ে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। লিজা অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ছুটি চেয়ে সুপারভাইজারের পা ধরলেও ছুটি দেওয়া হয়নি। লিজার মৃত্যুর জন্য সুপারভাইজার শাহ জালাল দায়ী। এদের কাছে আমাদের জীবনের কোনো দাম নেই, কাজের দামই বেশি।”

​তারা আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পর কারখানা কর্তৃপক্ষ কৌশলে লিজার মরদেহ বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে কারখানার প্রধান ফটক অবরোধ করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা।

​লিজার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে দুপুরের দিকে দেড় থেকে দুই শতাধিক শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে ভাঙনাহাটি গ্রামের ‘সিআরসি অ্যাপারেলস লি.’, ‘এমএইচসি অ্যাপারেলস লি.’, কেওয়া গ্রামের ‘ট্রিপল অ্যাপারেলস লি.’ এবং মাওনা চৌরাস্তার ‘নোমান উইভিং লি.’ কারখানায় একযোগে হামলা চালানো হয়।
​হামলাকারীরা ‘ট্রিপল অ্যাপারেলস’-এর প্রধান ফটক, অফিস কক্ষ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ‘এমএইচসি অ্যাপারেলস’-এর গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি বহুতল ভবনের আসবাবপত্র, একটি প্রাইভেট কার এবং দুটি কাভার্ড ভ্যান ভাঙচুর করে। এছাড়া সিআরসি ও নোমান উইভিং কারখানাতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভাঙচুর হওয়া কারখানা কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​‘কালার অ্যান্ড কোং’ কারখানার পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, রাতে অসুস্থ হয়ে লিজা নামের ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “লিজার পাওনা সঠিক নিয়মে পরিশোধ করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার অবহেলা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কালার কোম্পানির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে একদল দুষ্কৃতকারী সুযোগ বুঝে ৪টি পৃথক কারখানায় ভাঙচুর চালায়। নোমান উইভিং-এর সামনে থেকে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য কোনো মহল এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঁঞা জানান, কারখানায় হামলার ঘটনাটি তারা জেনেছেন। কোনো বিশেষ মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা