• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
কাপাসিয়ায় “জুলাই শহিদ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬” পালনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের হাত ভেঙ্গে কয়েক টুকরো, সিভিল সার্জন কতৃক তদন্ত কমিটি গঠন সিভিলসার্জন গাজীপুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কাপাসিয়া বাজারের মসজিদ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সিলেটে আবারও জেলা প্রশাসক পরিবর্তন, জনমনে নানা আলোচনা গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য হাতির আ.ক্র.মণ: দুই পা ভেঙে মৃ.ত্যু.র মুখে ‘রাজু বাহাদুর’ গাজীপুরে দুই শিশু সন্তানকে বি.ষ খাইয়ে মায়ের বি.ষ পান ; দুই সন্তানের অবস্থা আ.শ.ঙ্কা.জ.ন.ক কাপাসিয়ার মানুষকে কাঁদিয়ে ও নিজে অশ্রুসিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন ইউএনও ডা: তামান্না তাসনীম সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের প্রবাসী-কেন্দ্রিক স্বপ্ন: ধারাবাহিকতা থাকবে, নাকি থেমে যাবে? শ্রীপুরে কারখানায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক অ.সুস্থ, শ্রমিকদের মাঝে আ.ত.ঙ্ক ; ​তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা ও হয়রানি

সিভিলসার্জন গাজীপুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

Reporter Name / ৯৩ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

অবশেষে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ কাণ্ডে সিভিল সার্জন মামুনুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে শামসুল হুদা লিটন:

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ লুকিয়ে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলো। সেই বহুল আলোচিত ঘটনায় অবশেষে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে বিভাগীয় মামলা নং-১৭২/২০২৬ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে মজুদ করে নষ্ট করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় ডা. মামুনুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ এপ্রিল মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি কোয়ার্টার ভবনের নিচতলার পরিত্যক্ত অংশের পাঁচটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ না করায় সেসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই ভবনের আরও দুটি কক্ষে হাসপাতালের জন্য কেনা বিভিন্ন সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল। এ সময় গাজীপুরের বর্তমান সিভিল সার্জন ডাক্তার মামুনুর রহমান ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার দায়িত্বে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে সরকারি ওষুধ অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওষুধ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বছরের পর বছর গুদামজাত অবস্থায় পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে একদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজার হাজার দরিদ্র অসহায় রোগী। বিপুল পরিমাণে সরকারি ঔষধ রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে মেয়াদ উত্তীর্ণ করার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ডাঃ মামুনুর রহমানের বিচারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এত বড় অনিয়ম দিনের পর দিন চললেও কেন তা আগে থামানো যায়নি?

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। তাদের মতে, সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং রোগীদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনায় বিভাগীয় মামলাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আর্থিক দায় নির্ধারণের উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা