জি-নিউজ ডেস্কঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে সৎ বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে সৎ বাবা আশরাফ আলী একাই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরীকে হত্যা করেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা ও হযরত আলীও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। অপরদিকে আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার কিশোরী হত্যার ১০-১২ দিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কিশোরীর সৎ বাবা আশরাফ আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরীকে হত্যা করেন। পরে পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
আশরাফ আলী তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, সৎ মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন। এছাড়া এসব কারণে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় তিনি তাকে হত্যা করেছেন বলে জানান।
চাঞ্চল্যকর এই কিশোরী হত্যা মামলায় মূল আসামি সৎ বাবা আশরাফ আলীসহ প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং চারজন ধর্ষকসহ এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে।