শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা-ছেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত,বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে আমিনুল ইসলাম ও তার মা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম।
উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল সলিংমোড় ও দেদুয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেদুয়ার গ্রামের মৃত আব্দুল সহিদের ছেলে আমিনুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার মজিবুর মৃধা, নাজমুল মৃধা, আবুল কাশেম মৃধা গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। তার জেরে গত ৫, ৬ ও ১৭ অক্টোবর তিন দফায় তাঁদের পৈতৃক দখলের চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষরা। এতে বাধা দিলে তাঁদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় বাধা দিতে এলে তাঁর ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. মুর্শীদা খাতুন ও বোনদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করা হয়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তাঁদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বাধা দেওয়ায় আমার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। আমার বৃদ্ধা মা ও বোনেরাও রেহাই পাননি। তাঁরা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে মজিবুর মৃধা জানান, আমরা বাবার পৈত্রিক জমি আমরা ভাই মিলে ভোগদখল করে আছি। আমাদের রেজেস্ট্রি করা দলিল রয়েছে।আমরা কারো জমি দখল করতে যায়নি। আমার জমি থেকে বাঁশ কেটেছি তাতে তারা বাঁধা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক জানান, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”