শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনা
সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের উদ্যোগ আবারও আলোচনায়
মোঃ নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
দরগাহে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী দান-অনুদান প্রদান করেন। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হয়। এই অর্থের সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, ব্যয় এবং তদারকি কীভাবে হচ্ছে—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে দান-অনুদানের অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত নিরীক্ষা (অডিট) এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও কমে আসবে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে আসছে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের নাম। দায়িত্ব পালনকালে তিনি দরগাহের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলে অনেকেই উল্লেখ করছেন। তার নেওয়া কিছু উদ্যোগ জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিমত।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের মধ্যেও এখন দান-অনুদানের অর্থের সঠিক হিসাব প্রকাশ এবং নিয়মিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। অনেকের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হলে দরগাহের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সুযোগ কমে যাবে।
প্রতিবেদকের মন্তব্য:
আমি, মোঃ নাসির, মনে করি ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে জনস্বার্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে আসা অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়। সঠিক হিসাব-নিকাশ চাওয়া ধর্মের বিরোধিতা নয়; বরং এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। পাশাপাশি, প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকেও সকলের বিরত থাকা উচিত।
এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।