গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে । রোগীর উত্তেজীত স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সোমবার সকালে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুমা আক্তার (২৫) উপজেলার হেড়াপটকা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের মেয়ে এবং শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের মোঃ মানিক মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার (৭মার্চ) ভোর চারটার দিকে রুমা আক্তারকে সন্তান প্রসবের জন্য মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার বেলা এগারোটার সময় রুমার সিজারিয়ান অপারেশন করে ছেলে সন্তান প্রসব করে।
সোমবার ভোরে চারটার দিকে হঠাৎ করে তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পথেই রুমার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
সকাল ৭টার দিকে নিহতের স্বজনরা রুমার মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে অসে। এ সময় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর করে। হামলা কারীরা হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে নিচতলা, দোতলা ও তিন তলায় ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় হাসপাতালের ভেতরে থাকা ফার্মেসি,ওয়েটিং কক্ষ, রিসিপশন, ডাক্তারদের কক্ষ, বিভিন্ন ওয়ার্ড,অপারেশন থিয়েটার,আসবাপত্র, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যাপক ভাংচুর করে। হামলায় প্রানের ভয়ে হাসপাতালের কর্মরতরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে মরদেহ রেখে বিচার দাবী করে। এক পর্যায়ে মাওনা ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুপুর একটার দিকে পুলিশ সড়ক থেকে অবরোধ কারীদের সড়িয়ে দেয়। পরে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ মুঠোফোনে জানান, অপারেশন করেন আশুলিয়ার নারী ও শিশু কেন্দ্রের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রাজশ্রী ভৌমিক ও এনেসথেসিয়া করেন ডা. রেজুয়ান। রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক ছিলো। সোমবার ভোর রাতে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে এসে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর,লুটপাট করে। হামলা কারীরা নিচ তলা থেকে তিন তলার অপারেশন থিয়েটার হাসপাতালে সমস্ত আসবা পত্র ভাংচুর করে প্রায় দেড় কোটিটাকার ক্ষতি করেছে। লুটপাট করেছে। মারপিট করে আহত করেছে হাসপাতালে ষ্টাফদের।কর্মরতরা ভয়ে দৌড়ে প্রান বাঁচায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির আহমেদ জানান,নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছি। কয়েক ঘন্টা চেষ্টা করে মরদেহ উদ্ধার করেছি। স্বজনরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।